শিবালিক থেকে নন্দা দেবী: ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কারের নামকরণে লুকিয়ে কোন বিশেষ নিয়ম?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে ভারতে এলপিজি সরবরাহ সচল রাখতে সক্রিয় রয়েছে একাধিক ট্যাঙ্কার। সম্প্রতি ‘গ্রিন আশা’, ‘পাইন গ্যাস’ এবং ‘জাগ বসন্ত’-এর মতো জাহাজগুলো কয়েক লক্ষ টন তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস নিয়ে দেশে পৌঁছেছে। এছাড়া গুজরাতের মুন্দ্রা ও কান্ডলা বন্দরে ভিড়েছে ‘এমটি শিবালিক’ ও ‘এমটি নন্দা দেবী’। সংকটের সময়ে এই জাহাজগুলোর নিয়মিত আগমন গ্যাস বুকিংয়ের দুশ্চিন্তা কাটিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মনে আশার আলো জাগাচ্ছে।
এই বিশালাকার জাহাজগুলোর নামকরণের নেপথ্যে রয়েছে শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (SCI)-এর কঠোর থিম্যাটিক নিয়ম। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের ঐতিহ্য ও ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরাই এর মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কারের ক্ষেত্রে পর্বতমালার নাম ব্যবহারের দীর্ঘদিনের প্রথা রয়েছে। যেমন—হিমালয়ের শিবালিক পর্বতমালা থেকে ‘এমটি শিবালিক’ এবং ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ থেকে ‘এমটি নন্দা দেবী’ নামটি রাখা হয়েছে।
জাহাজের ধরন অনুযায়ী এই নামকরণের থিম পরিবর্তিত হয়। প্রোডাক্ট ট্যাঙ্কারের ক্ষেত্রে রাজ্য বা জাতীয় নেতাদের নাম এবং বাল্ক ক্যারিয়ারের জন্য প্রাচীন রাজবংশ বা ঐতিহাসিক স্থানের নাম বেছে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, এলপিজি ক্যারিয়ারের নামকরণে বিজ্ঞানী বা নদ-নদীর নাম ব্যবহারের চল রয়েছে। SCI-এর প্রস্তাবিত এই নামগুলো শেষপর্যন্ত কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রকের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই কার্যকর করা হয়।