রক্তাক্ত পটাশপুর! বিজেপি প্রার্থীর মিছিলে তৃণমূলের ‘হামলা’ ও গুলিচালনার অভিযোগে গর্জে উঠলেন শুভেন্দু

রক্তাক্ত পটাশপুর! বিজেপি প্রার্থীর মিছিলে তৃণমূলের ‘হামলা’ ও গুলিচালনার অভিযোগে গর্জে উঠলেন শুভেন্দু

পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পটাশপুরে বিজেপি প্রার্থী শান্তনু প্রামাণিকের নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা অতর্কিতে বিজেপির প্রচার মিছিলে হামলা চালায়। এই ঘটনায় শাশ্বতালমাল গ্রামের আরগোয়াল এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও পোস্ট করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে এই হিংসার বাতাবরণ তৈরি করেছে। তাঁর অভিযোগ, প্রচার চলাকালীন বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবাজি ও গুলি চালানো হয়েছে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি মনে করছেন।

হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করে শুভেন্দু জানান, দুষ্কৃতীরা কেবল মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং একাধিক মোটরবাইক ভাঙচুর করা হয়েছে। রণক্ষেত্রের চেহারা নেওয়া আরগোয়াল এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়কের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তৃণমূল এখন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে এবং বিরোধী কণ্ঠস্বর রোধ করতে চাইছে।

এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে বিজেপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি বলেন, “আমরা মাথা নত করব না।” গণতন্ত্রের উৎসবে বাধা দেওয়ার এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে লড়াই করার বার্তাও দিয়েছেন এই বিজেপি নেতা।

নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা সাজানো ঘটনা বলে পাল্টা দাবি করা হয়েছে।

ভোটের মুখে পূর্ব মেদিনীপুরের এই সংঘর্ষ জনমানসে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। পটাশপুরের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আগামী দফার নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে ওই এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ টহল দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *