রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যুতে ৫ জনের বিরুদ্ধে প্রিয়াঙ্কার গুরুতর অভিযোগ

টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে টলিউড জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয় বলেই দাবি করছেন তাঁর স্ত্রী তথা বিশিষ্ট অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি সরাসরি ৫ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। প্রিয়াঙ্কার দায়ের করা এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিনোদন জগতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
প্রিয়াঙ্কা সরকার তাঁর অভিযোগে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ নামক জনপ্রিয় সিরিয়ালের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর সাথে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। এই তালিকায় প্রথমেই নাম রয়েছে সংস্থাটির কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং খ্যাতনামা লেখিকা ও প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের। প্রিয়াঙ্কার দাবি অনুযায়ী, তাঁর স্বামীর মৃত্যুর নেপথ্যে এই ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
অভিযুক্তদের তালিকায় আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন উক্ত সিরিয়ালের পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল এবং ফ্লোর এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার শান্তনু নন্দী। এছাড়াও প্রযোজনা সংস্থার ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিনেত্রী। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগের মূল অভিমুখ হলো, এই ৫ জন ব্যক্তির আচরণ বা কর্মপদ্ধতি রাহুলের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে পেশ করা বয়ানে প্রিয়াঙ্কা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, ঘটনার গভীরে গিয়ে সঠিক তথ্য উদঘাটন করতে এই ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা অপরিহার্য। পুলিশের কাছে প্রিয়াঙ্কার এই পদক্ষেপ রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত রহস্যের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া এখন কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে চলচ্চিত্র প্রেমীরা।
এদিকে টলিপাড়ার অন্দরে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। শ্যুটিং ফ্লোরের কাজের চাপ নাকি অন্য কোনো ব্যক্তিগত সংঘাতের জেরে এই পরিণতি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর মতো প্রথম সারির প্রযোজনা সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ ওঠায় সাধারণ মানুষের মনেও কৌতূহল তুঙ্গে। রাহুলের অনুরাগীরা এখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে সঠিক বিচার ও সত্য সামনে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
বর্তমানে পুলিশ এই অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান রেকর্ড করার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা সরকার জানিয়েছেন যে তাঁর স্বামীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। অভিযুক্ত ৫ জনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি আইনি পথে এগোলে আরও নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।