বাংলার সংস্কৃতি বিপন্ন মোদীর ‘ইস্তেহার’ খোঁচায় শোরগোল রাজনৈতিক মহলে

বাংলার সংস্কৃতি বিপন্ন মোদীর ‘ইস্তেহার’ খোঁচায় শোরগোল রাজনৈতিক মহলে

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের ময়দান থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের শাসক দলের ঘোষিত সংকল্পপত্রের নামকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে বাংলার নিজস্ব পরিচিতি বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মোদীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভোটমুখী বাংলায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী এদিন জনসভা থেকে অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস তাদের নির্বাচনী ঘোষণাপত্রের নাম বাংলায় না রেখে ‘ইস্তেহার’ শব্দটিকে বেছে নিয়েছে। তাঁর মতে, এটি নেহাতই কোনো ভাষাগত নির্বাচন নয়, বরং এর নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার এমন শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে যা বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত নয় এবং যার সঙ্গে নেতিবাচক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জড়িত।

ইস্তেহার শব্দের ব্যবহার নিয়ে ঐতিহাসিক প্রসঙ্গের অবতারণা করে মোদী বলেন, ১৯০৫ সালে ‘লাল ইস্তেহার’ জারি করার মাধ্যমে হিন্দুদের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, তৃণমূল বর্তমান সময়ে সেই একই মানসিকতার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, বিশেষ একটি রাজনৈতিক মতাদর্শকে তোষণ করতেই এমন নামকরণ করা হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে রাজ্যের সাংস্কৃতিক কাঠামোকে আঘাত করছে।

তৃণমূল সরকারকে ‘নির্মম’ বলে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন যে, বর্তমান প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এক বিশেষ গোষ্ঠীর আধিপত্য তৈরির চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্দিষ্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী লোকেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে হিন্দুদের টিকে থাকা কঠিন করে তোলা হবে। এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি তৃণমূলের ‘ভোটব্যাংকের রাজনীতি’কে দায়ী করেন তিনি।

রাজ্যের মানুষের ভাবাবেগকে উসকে দিয়ে তিনি জানান, বাংলার ঐতিহ্য ও শিকড় থেকে সমাজকে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে শাসক দল। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অস্তিত্ব সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি সরব হন। মোদীর এই ভাষণের পর তৃণমূলের তরফে কড়া প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনের উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

সার্বিকভাবে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, বরং ভাষাগত এবং ধর্মীয় মেরুকরণের এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল। নির্বাচনের মুখে বাংলার সংস্কৃতি বনাম বহিরাগত শব্দের এই লড়াই ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই ‘ইস্তেহার’ খোঁচা আদতে বাংলার হিন্দু ভোটারদের একজোট করার কৌশল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *