রক্তে কোলেস্টেরল বাড়লে শরীর দেয় এই ৬টি বিশেষ সংকেত, অবহেলা করলেই বাড়বে বিপদ

রক্তে কোলেস্টেরল বাড়লে শরীর দেয় এই ৬টি বিশেষ সংকেত, অবহেলা করলেই বাড়বে বিপদ

বর্তমান সময়ে অনিয়মিত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে উচ্চ কোলেস্টেরল একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রক্তে চর্বি বা মোম জাতীয় এই উপাদানের মাত্রা বেড়ে গেলে তা ধমনীর দেওয়ালে জমা হতে শুরু করে। ফলে রক্ত চলাচলের পথ সরু হয়ে যায় যা পরবর্তীকালে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের মতো বড় ঝুঁকি তৈরি করে। সাধারণত কোলেস্টেরল দুই ধরনের হয়, যার মধ্যে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অন্যদিকে এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরল রক্ত থেকে অতিরিক্ত চর্বি সরিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে শরীরে বেশ কিছু বাহ্যিক লক্ষণ প্রকাশ পায় যা দেখে সতর্ক হওয়া জরুরি। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে উচ্চ কোলেস্টেরলের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো ত্বকের পরিবর্তন। বিশেষ করে কনুই, হাঁটু বা শরীরের বিভিন্ন গাঁটে মোমের মতো হলদেটে ছোট ছোট গুটি দেখা দিতে পারে যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে জ্যানথোমাস বলা হয়। এগুলি মূলত ত্বকের নিচে চর্বি জমে যাওয়ার ফল। এছাড়া চোখের কোণে বা চোখের পাতায় ছোট ছোট হলুদ ছোপ বা ফলক দেখা দিলে বুঝতে হবে শরীরে কোলেস্টেরল বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে।

হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে চর্বি জমার কারণে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হলে বুকে ব্যথা বা এনজাইনার সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভারী কোনো কাজ করার সময় বা শারীরিক পরিশ্রমের পর যদি বুকে চাপ ধরা বা অস্বস্তি অনুভূত হয় তবে তা উচ্চ কোলেস্টেরলের সংকেত হতে পারে। এর পাশাপাশি সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা তৈরি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। কারণ শরীর পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে না পারলে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

শরীরের নিচের অংশে অর্থাৎ হাত ও পায়ে রক্ত সঞ্চালন কমে গেলে হাঁটার সময় পায়ে তীব্র ব্যথা বা ঝিঁঝিঁ ধরার মতো অনুভূতি হয়। হাত-পা বারবার অসাড় বা অবশ হয়ে যাওয়া উচ্চ কোলেস্টেরলের একটি বিশেষ লক্ষণ। এছাড়া পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছানোর ফলে সারা শরীরে সব সময় এক ধরনের ক্লান্তিবোধ কাজ করে। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে গেলে মাঝেমধ্যেই মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে যা অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে রক্ত পরীক্ষা ছাড়া কোলেস্টেরলের সঠিক মাত্রা জানা সম্ভব নয়। তাই কুড়ি বছর বয়সের পর থেকে অন্তত প্রতি ৪ থেকে ৬ বছর অন্তর লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা উচিত। তবে যাদের ডায়াবেটিস, ওবেসিটি বা ধূমপানের অভ্যাস রয়েছে তাদের নিয়মিত এক বা দুই বছর অন্তর পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। এমনকি ৯ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদেরও একবার কোলেস্টেরল পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভবিষ্যতের সুরক্ষার জন্য জরুরি। সঠিক সময়ে সতর্ক হলে এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *