স্ত্রীর সঙ্গেই থাকবে অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকা! দাবি আদায়ে ট্রান্সফরমারের ওপর চড়ে যুবকের তাণ্ডব

কেরলের পতনমতিট্টা জেলায় পারিবারিক বিবাদের এক বিচিত্র ও চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন ২৩ বছর বয়সী এক যুবক। অ্যারোমাল নামের ওই যুবক নিজের দাবিতে অনড় থেকে ১১ কেভি বিদ্যুৎবাহী লাইনের ট্রান্সফরমারের ওপর চড়ে বসে আত্মহত্যার হুমকি দেন। রবিবার রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিদ্যুৎ দপ্তরে খবর দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, যার ফলে বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার মূলে রয়েছে অ্যারোমালের এক অদ্ভুত আবদার। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যারোমাল তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং স্ত্রীর সঙ্গেই তাকে রাখতে চান। স্বামীর এই সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানান তার স্ত্রী। এই নিয়ে দম্পতির মধ্যে চরম অশান্তি শুরু হলে ক্ষুব্ধ স্ত্রী তার বাপের বাড়ি চলে যান এবং সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি আর স্বামীর কাছে ফিরবেন না। স্ত্রী ফিরে না আসায় তাকে বাধ্য করতেই এই আত্মঘাতী পথ বেছে নেন অ্যারোমাল।
রবিবার রাতে অ্যারোমাল তার শ্বশুরবাড়ির সামনে থাকা একটি ইলেকট্রিক ট্রান্সফরমারের ওপর উঠে পড়েন। সেখান থেকেই চিৎকার করে দাবি জানাতে থাকেন যে, স্ত্রীকে ফিরে আসতে হবে এবং একই সাথে তার প্রেমিকাকেও বাড়িতে রাখতে দিতে হবে। দাবি না মানলে উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার হুমকিও দিতে থাকেন তিনি। তার এই কাণ্ড দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশ এবং দমকল বাহিনীকে।
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও দমকল কর্মীরা পৌঁছে অ্যারোমালকে বুঝিয়ে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন। সারা রাত ধরে চলে এই টানটান নাটক। একদিকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় গোটা এলাকা অন্ধকারে ডুবে ছিল, অন্যদিকে ট্রান্সফরমারের ওপর বসে যুবক সমানে হুমকি দিচ্ছিলেন। উদ্ধারকারী দল তাকে বারবার সতর্ক করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পর সোমবার ভোরে কিছুটা শান্ত হন তিনি।
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোরবেলা অ্যারোমালকে ট্রান্সফরমার থেকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন দমকল কর্মীরা। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার এই স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। পুলিশ ওই যুবককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং পারিবারিক এই জটিল সমস্যার সমাধানে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছে। এই অদ্ভুত ঘটনাটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।