ক্লান্তি ও বিভ্রান্তি কি শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত?

শরীরে ক্যালসিয়াম বা ভিটামিনের ঘাটতি নিয়ে সচেতনতা থাকলেও সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্যহীনতা প্রায়ই অলক্ষ্যে থেকে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এই দুই ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা সামান্য পরিবর্তন হলে বিভ্রান্তি, বমিভাব, মাথা ঘোরা ও পেশির দুর্বলতার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাওয়া প্রবীণদের এই বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘাম, অপর্যাপ্ত খাবার বা কিডনির সমস্যার কারণে শরীরের জলীয় অংশের পরিবর্তন হলে এই ভারসাম্য নষ্ট হয়। সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে খিঁচুনি বা কোমার ঝুঁকি থাকে, আবার পটাশিয়ামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে প্রাণঘাতী হৃদরোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়। হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
এই ঝুঁকি এড়াতে প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ গ্লাস জল পানের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় ডাবের জল, লেবুর জল বা ফল রাখা প্রয়োজন। তবে আগে থেকে কোনো অসুস্থতা থাকলে নিজস্ব সিদ্ধান্তে নয়, বরং চিকিৎসকের নির্দেশিত ডায়েট মেনে চলতে হবে। শরীরের সামান্য এই খনিজ বৈষম্য বড় ধরনের স্নায়বিক ও হৃদযন্ত্রের জটিলতা তৈরি করতে পারে, তাই সময়মতো সতর্ক হওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ।