ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রে হামলার চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হোরমুজ প্রণালী’ যদি অবিলম্বে সামুদ্রিক যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত না করা হয়, তবে ইরানের জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র এবং সেতুগুলোতে সরাসরি হামলা চালানো হবে। রবিবার সকালে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানান, এই জলপথ অবরুদ্ধ থাকলে ইরানকে চরম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
গত দুই সপ্তাহ ধরেই এই অঞ্চলে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এর আগে ট্রাম্প দুবার হামলার সময়সীমা বাড়িয়েছিলেন এবং ইরানীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক সংকেত পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু কূটনৈতিক স্তরে যুদ্ধ থামানোর বা দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের কোনো কার্যকর অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা ছিল আলোচনা সফল হতে পারে, তবে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক হুমকি পরিস্থিতিকে আবারও সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।
এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রো-কেমিক্যাল প্ল্যান্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার আবু ধাবির ‘বোরুজ’ পেট্রো-কেমিক্যাল প্ল্যান্টে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে শত্রুপক্ষের হামলা প্রতিহত করলেও, তার ধ্বংসাবশেষ প্ল্যান্টের ওপর আছড়ে পড়ে। এর ফলেই সেখানে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে বর্তমানে ওই প্ল্যান্টের উৎপাদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রুয়াইস এলাকায় অবস্থিত এই পেট্রো-কেমিক্যাল প্ল্যান্টটি সৌদি আরবের পশ্চিম সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থিত। উল্লেখ্য, এটি ‘আবু ধাবি ন্যাশনাল অয়েল কো ম্পা নি’ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত সংস্থা ‘বোরেलिस’-এর একটি যৌথ উদ্যোগ। তেলের বাজারে এই প্ল্যান্টের বড় ভূমিকা থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পারস্য উপসাগরের বর্তমান পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের মতো। একদিকে হোরমুজ প্রণালী নিয়ে আমেরিকার অনড় অবস্থান এবং অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শিল্পাঞ্চলে হামলা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এখন কোনো সমাধানের পথ খুঁজে পায় কি না, সেটাই দেখার বিষয়। ট্রাম্পের এই চরম বার্তা ইরান কীভাবে গ্রহণ করে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামীর পরিস্থিতি।