ইরানে রুদ্ধশ্বাস মার্কিন উদ্ধার অভিযান, শত্রুহাতে প্রযুক্তি যাওয়া রুখতে নিজেদের বিমানেই বিস্ফোরণ আমেরিকার

ইরানে রুদ্ধশ্বাস মার্কিন উদ্ধার অভিযান, শত্রুহাতে প্রযুক্তি যাওয়া রুখতে নিজেদের বিমানেই বিস্ফোরণ আমেরিকার

ইরানে ভেঙে পড়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট ও ক্রু সদস্যদের উদ্ধারে এক দুঃসাহসিক ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান চালাল আমেরিকা। এই বিশেষ অভিযানে ক্রু সদস্যদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের অন্তত দুটি উন্নত মানের সামরিক বিমান ধ্বংস করতে হয়েছে। শত্রুদেশের ভূখণ্ডে মার্কিন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং গোপন তথ্য যাতে ইরানি বাহিনীর হাতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরে চালানো এই গোপন মিশনে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনের দুটি এমসি-১৩০জে বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ধরণের বিমান সাধারণত দুর্গম ও শত্রু নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে সেনা সদস্যদের উদ্ধারে ব্যবহার করা হয়। উদ্ধারকাজ চলাকালীন কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বিমান দুটি আটকে পড়ে। গোয়েন্দা ও সামরিক কৌশলগত কারণে বিমান দুটিকে ইরান ভূখণ্ডে ফেলে না রেখে সেগুলোতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয় মার্কিন কমান্ডোরা।

ঘটনাটি নিয়ে ইরান ও আমেরিকার পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। ইরানের সামরিক মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ ইসফাহানে দুটি সি-১৩০ বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা হয়েছে। তারা এই অভিযানকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অপারেশনকে এক বিশাল সাফল্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, বিপৎসংকুল এলাকায় আটকে পড়া এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকেও নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া সেনা সদস্য একজন উচ্চপদস্থ কर्नल পদমর্যাদার অফিসার। ওই যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও, ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার হিসেবে কর্মরত ওই কर्नल প্রায় দুই দিন ইরানের বিপজ্জনক পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন। তাকে উদ্ধারের জন্য কয়েকশ স্পেশাল ফোর্স জওয়ান এবং নৌবাহিনীর এলিট নেভি সিল টিম-৬ এর কমান্ডোদের মোতায়েন করা হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি পেন্টাগনের শীর্ষ কর্তারা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই অভিযানের আগে সুকৌশলে ইরানি শিবিরের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেয় যে, নিখোঁজ সেনাকে আগেই উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে শত্রুসেনার নজরদারি কিছুটা শিথিল হয় এবং সেই সুযোগেই নিখোঁজ অফিসারের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করা হয়। মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের বহুমূল্য বিমান ধ্বংস করার সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী, যাতে ইরানের হাতে মার্কিনিদের বিশেষ প্রযুক্তির কোনো হদিস না পৌঁছায়। সব মিলিয়ে এই অভিযানটি বর্তমান বৈশ্বিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *