খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও এনজিওদের লক্ষ্যবস্তু করছে মোদী সরকার, সরব খাড়গে

কেরালার ইদুক্কি বিধানসভা কেন্দ্রে ইউডিএফ-এর এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তীব্র সমালোচনা করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি অভিযোগ করেন, জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং সুশীল সমাজের ওপর আঘাত হানতেই কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনে (এফসিআরএ) বিতর্কিত পরিবর্তন আনছে। খাড়গের দাবি, এই সংস্কারের আড়ালে বিজেপি এবং মোদী সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো সমাজসেবী সংস্থাগুলোর মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা এবং তাদের কণ্ঠরোধ করা।
গত ২৫ মার্চ লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই এফসিআরএ সংশোধনী বিল পেশ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বৈদেশিক তহবিলের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, এটি কোনো সংস্কার নয়, বরং যারা জনসেবায় নিয়োজিত তাদের ওপর সুপরিকল্পিত আক্রমণ। খাড়গে জানান, মোদী সরকার এই আইনের মাধ্যমে বিশেষ করে খ্রিস্টান প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকিস্বরূপ।
জনসভা থেকে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধেও সুর চড়ান খাড়গে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজয়ন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না এবং পরোক্ষভাবে মোদী সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়েছেন। বামপন্থী সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, কেরালায় বর্তমান শাসনব্যবস্থা বিজেপি-র দেখানো পথেই চলছে। আসন্ন ৯ এপ্রিল কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে ইদুক্কির মতো ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যাপ্রবণ এলাকায় খাড়গের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এলাকার স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরে খাড়গে বলেন, ইদুক্কির কয়েক হাজার পরিবারের কাছে এখনও জমির মালিকানা বা পাট্টা নেই। তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ওই জমিতে বসবাস করলেও আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত। ইউডিএফ ক্ষমতায় এলে ভূমি আইন সহজ করে প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে পাট্টা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়া বন্যপ্রাণী ও হাতিদের উপদ্রব থেকে কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সঠিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের আশ্বাসও দেন তিনি।
নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর আলোকপাত করে খাড়গে বলেন, সাধারণ মানুষের কল্যাণে পেনশন বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করা হবে এবং ওমান চান্ডির নামে ২৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হবে। নারীদের জন্য কেএসআরটিসি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত এবং ছাত্রীদের জন্য মাসিক ১০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেন তিনি। এছাড়াও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ এবং রাবারের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ৩০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে খাড়গে জানান, পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলোর মানোন্নয়ন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই নির্বাচন কৃষক, শ্রমিক এবং বঞ্চিত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়ার লড়াই। দুর্নীতিমুক্ত শাসন এবং স্বচ্ছতার মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ দায়বদ্ধ বলে তিনি মন্তব্য করেন। সামগ্রিকভাবে, এফসিআরএ ইস্যু এবং স্থানীয় উন্নয়নের দাবিকে সামনে রেখে মোদী-বিজয়ন জোটের বিরুদ্ধে বড়সড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন কংগ্রেস সভাপতি।