কোচবিহারে মোদীর মেগা র্যালি, তৃণমূলের অপশাসনের হিসাব হবে ৪ মে-র পর

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে ঐতিহাসিক ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে নির্বাচনী দামামা বাজালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, রাজ্যে চলা বর্তমান শাসনের দিন ফুরিয়ে এসেছে এবং ৪ মে-র পর মানুষের ওপর হওয়া প্রতিটি অত্যাচারের হিসাব নেওয়া হবে।
কোচবিহারের এই জনসভায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখে আপ্লুত মোদী একে ‘নতুন বাংলা’ গড়ার অঙ্গীকার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আজকের এই ভিড় অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে, যা বিজেপি সরকারের প্রতি মানুষের অবিচল আস্থার প্রতীক। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলায় দীর্ঘদিনের ভয়ের পরিবেশ চিরতরে শেষ হবে এবং আইনের শাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, অপরাধী বা গুন্ডা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী মালদহের সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। সেখানে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের যেভাবে হেনস্থা ও বন্দি করা হয়েছে, তাকে তিনি ‘সরকারি মদতপুষ্ট জঙ্গলরাজ’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন যে, তৃণমূলের সিণ্ডিকেট রাজ কেবল সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করছে না, বরং অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দিয়ে বাংলার নিজস্ব পরিচয় মুছে ফেলার চক্রান্ত করছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে সীমান্ত সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সন্দেশখালি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে যথেষ্ট আবেগপ্রবণ হতে দেখা যায়। তিনি বলেন, একদিকে যেমন সন্দেশখালির মা-বোনেদের ওপর অমানवीय অত্যাচারের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে, অন্যদিকে মোদীর গ্যারান্টি সেই নারী শক্তিকে নিরাপত্তা ও সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই করছে। বাংলার নারীরা এই অন্যায় আর মুখ বুজে সহ্য করবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। নারীর ক্ষমতায়ন এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হবে বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গের এই স্বতঃস্ফূর্ত জনজোয়ারই প্রমাণ করছে যে রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের সময় শেষ হয়ে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতি ও অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে মানুষ পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে। উন্নয়নের পথে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি কোচবিহারের মানুষের কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ আগামী নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।