গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে আটার বদলে পাতে রাখুন এই ৪ বিশেষ রুটি

তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ গমের আটার রুটি অনেক সময় শরীরে তাপ উৎপন্ন করে এবং হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এই মৌসুমে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে এবং সতেজ অনুভব করতে পুষ্টিবিদরা গমের বিকল্প হিসেবে বিশেষ কিছু শস্যের রুটি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
জোয়ারের রুটি গ্রীষ্মকালের জন্য আদর্শ একটি খাবার। এটি সম্পূর্ণ গ্লুটেন-মুক্ত এবং এর পুষ্টিগুণ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। জোয়ারে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। দুপুরের খাবারে এই রুটি রাখলে পেটে গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এবং এটি দীর্ঘক্ষণ শরীরকে আর্দ্র রাখে।
শরীরের তাপমাত্রা কমাতে চালের গুঁড়োর রুটিও বিশেষ কার্যকর। এটি অত্যন্ত হালকা এবং সহজে হজমযোগ্য। চালের গুঁড়োর রুটি খেলে পেট ভরা থাকে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। বিশেষ করে যারা গরমে পেটের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য ভাতের বিকল্প হিসেবে এই রুটি একটি চমৎকার স্বাস্থ্যকর পছন্দ হতে পারে।
প্রখর তাপপ্রবাহ বা ‘লু’ থেকে বাঁচতে বার্লির রুটি জাদুর মতো কাজ করে। বার্লির শীতল করার ক্ষমতা শরীরে প্রাকৃতিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। এতে উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকার কারণে এটি গরমে অস্বস্তি এবং পেটের ভারি ভাব কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বার্লির রুটি অন্তর্ভুক্ত করলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও অনেকটা কমে যায়।
এছাড়া ক্যালসিয়াম ও আয়রন সমৃদ্ধ রাগির রুটি গরমে শরীরে শক্তির জোগান দেয়। দুপুরের খাবার বা রাতের খাবারে রাগির রুটির সঙ্গে পাতলা ঝোল বা নারকেলের চাটনি যুক্ত করলে এটি সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত পুষ্টিকর হয়ে ওঠে। রাগির ফাইবার দীর্ঘক্ষণ শরীরকে সতেজ ও হালকা রাখে। এই শস্যগুলো নিয়মিত সেবন করলে গ্রীষ্মের দাবদাহেও শরীর থাকবে সতেজ ও নিরোগ।