রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে অভিনেতা জিতু কমলের বিস্ফোরক মন্তব্য

জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল ও অস্বাভাবিক প্রয়াণে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে শুধু সহকর্মী শিল্পীরাই নন, শোকার্ত অগুনতি অনুরাগীও। তবে এই শোকের আবহের মধ্যেই দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আইনি তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রখ্যাত নির্মাতা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স’-এর বিরুদ্ধে কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানা এবং ওড়িশার তালশারিতে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
এই উত্তাল পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুলেছেন অভিনেতা জিতু কমল। ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি পুরো বিষয়টিকে ‘কুমিরের কান্না’ বলে অভিহিত করেছেন। জিতু জানান, এক সময় ট্রেনে চড়ে একা লড়াই করে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, একজন শিল্পী যখন অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে লড়াই করেন, তখন ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে সেভাবে কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না। অথচ মৃত্যুর পর সমবেদনার ঢল নামা কিংবা আইনি পদক্ষেপ নেওয়াকে তিনি লোকদেখানো বলেই মনে করছেন।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জিতু আরও জানান যে, তাঁর নিজের অসুস্থতার সময় তিনি চিকিৎসার বিল জমা দিয়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইমেলও করেছিলেন। কিন্তু সেই মেলের কোনো উত্তর তিনি পাননি। তাঁর প্রশ্ন, বর্তমান পরিকাঠামো কি আদৌ প্রতিকূল সময়ে শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে সক্ষম? জিতুর মতে, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল বা ‘নিজেদের ঘর’ এখনও গুছিয়ে ওঠেনি।
নিজের অধিকারের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে জিতু স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি সহজে হার মানবেন না। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই ক্ষোভ এবং আইনি লড়াই আগামী দিনে টলিউডে আরও বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়। পেশাদারিত্ব ও শিল্পীদের নিরাপত্তার অভাব নিয়ে তোলা এই প্রশ্নগুলো আপাতত বিনোদন জগতের অন্দরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।