উত্তরাখণ্ড থেকে বাংলা গঙ্গার জল এখন স্নানের উপযুক্ত দাবি কেন্দ্রের

উত্তরাখণ্ড থেকে বাংলা গঙ্গার জল এখন স্নানের উপযুক্ত দাবি কেন্দ্রের

কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গঙ্গার অধিকাংশ অংশের জল এখন স্নানের উপযোগী হয়ে উঠেছে। উত্তরাখণ্ড থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত নদীর ১১২টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ইতিবাচক চিত্র সামনে এসেছে। লোকসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ ভূষণ চৌধুরী জানিয়েছেন, গঙ্গার জলের পিএইচ (pH) মাত্রা এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের (Dissolved Oxygen) পরিমাণ বর্তমানে সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক খবর।

বিগত কয়েক বছরে ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের অধীনে ব্যাপক হারে জলশোধন ও নদী সংস্কারের কাজ চলায় দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। উত্তরাখণ্ড এবং বিহারের বেশিরভাগ অংশে জলের গুণমান স্নানের জন্য নিরাপদ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সামগ্রিক উন্নতি সত্ত্বেও উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি এখনও কিছুটা জটিল। বিশেষ করে কানপুর এবং গাজিপুরের মতো শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে দূষণের প্রকোপ এখনও উদ্বেগজনক স্তরে রয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং শিল্পজাত বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়া রোধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গঙ্গার যে অংশগুলিতে এখনও দূষণ রয়েছে, সেখানে জলশোধন প্ল্যান্টের কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নদী পরিষ্কার রাখার এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে গঙ্গার বাস্তুতন্ত্র রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে পুণ্যার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিও অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নদীর নাব্যতা বজায় রাখা এবং তীরের পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় কেন্দ্র আরও কিছু দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চালাচ্ছে। আগামী দিনে গঙ্গার প্রতিটি পয়েন্টে যাতে জলের গুণমান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বজায় থাকে, সেটিই এখন মন্ত্রকের প্রধান লক্ষ্য। গঙ্গার এই ভোলবদল পরিবেশবিদদের একাংশকেও আশার আলো দেখাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *