২০২৬-এই বিজেপির পতন ও দিল্লি দখলের হুঁশিয়ারি, মুর্শিদাবাদের সভা থেকে মেজাজ হারালেন মমতা

মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে দলীয় প্রার্থী শাওনী সিংহ রায়ের সমর্থনে আয়োজিত এক হাই-ভোল্টেজ জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার শমসেরগঞ্জের কর্মসূচি শেষ করে হেলিকপ্টারে জিয়াগঞ্জের তোকিয়ায় পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে আগামী ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপির নিশ্চিত পতন এবং বাংলার হাত ধরেই দিল্লি দখলের স্পষ্ট বার্তা দেন নেত্রী। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে কুরুচিকর রাজনীতির অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলার সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসে আঘাত কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
এদিন মমতার বক্তৃতায় উঠে আসে বাঙালির খাদ্য-সংস্কৃতির ওপর বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মাছ-মাংস খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তারাপীঠ থেকে কালীঘাট—সব জায়গার ভোগে মাছ থাকে, অথচ আমাদের খাদ্যাভ্যাসকে বারবার আসাম্মান করা হচ্ছে।” পাশাপাশি, ভিন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, উত্তরপ্রদেশ বা ওড়িশার মতো জায়গায় বাংলায় কথা বললেই শ্রমিকদের হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারীর প্রচারকে ‘বসন্তের কোকিল’ ও ‘ভাড়াটে সৈন্য’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। নিজের কেন্দ্রেও প্রায় ৪০ হাজার মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে তিনি একে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার ও গণতন্ত্র শেষ করার চেষ্টা বলে অভিহিত করেন। ১০০ দিনের কাজের টাকা ও সর্বশিক্ষার অর্থ বন্ধ রাখা নিয়ে কেন্দ্রকে ‘বঞ্চনাকারী’ তকমা দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ এবার ব্যালটেই এর যোগ্য জবাব দেবে।
তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পুরনো রণকৌশল আউড়ে বলেন, “রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই আমি নিজে প্রার্থী। ঘাসফুল চিহ্নে ভোট দেওয়া মানেই আমাকে ভোট দেওয়া।” বিজেপি ধর্ম নিয়ে দাঙ্গা বা বাংলা ভাগের রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক মহলের মতে, স্থানীয় স্তরের যাবতীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে ভোটারদের সরাসরি নিজের নামের ওপর আস্থা ফেরাতেই এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিলেন দলনেত্রী।