এক দশকে ৭ গুণ বৃদ্ধি দিলীপ ঘোষের সম্পত্তি, কত কোটির মালিক এই বিজেপি নেতা?

খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্র পুনরুদ্ধারে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ। শনিবার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে মনোনয়নপত্র দাখিল করার পাশাপাশি হলফনামায় নিজের সম্পত্তির যে খতিয়ান তিনি দিয়েছেন, তা এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। গত এক দশকে দিলীপ ঘোষের সম্পত্তি প্রায় সাত গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালে যেখানে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তা ২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, ৬১ বছর বয়সী এই নেতার বর্তমানে ১.৮৫ কোটি টাকার স্থাবর এবং ২৮.৭৫ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
সম্পত্তির বিবরন অনুযায়ী, মেদিনীপুরে পৈতৃক জমি ছাড়াও কলকাতার লেদার কমপ্লেক্স এলাকায় ১.৪২ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে দিলীপ ঘোষের নামে। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার ঘোষের নামেও রয়েছে ৭০ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পত্তি, যার মধ্যে রাজারহাটের দুটি ফ্ল্যাট উল্লেখযোগ্য। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দম্পতির কারও কাছেই কোনো সোনা বা গয়না নেই। দিলীপ ঘোষের নিজস্ব কোনো গাড়ি না থাকলেও, তাঁর স্ত্রী চলতি বছরেই ১৪.৬২ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কিনেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁর মাথায় ৫০ লক্ষ টাকার ঋণের বোঝা থাকলেও, বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত।
পেশাগতভাবে নিজেকে বিজেপির পূর্ণসময়ের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর আয়ের প্রধান উৎস হলো প্রাক্তন সাংসদ ও বিধায়ক পদের পেনশন এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০২১-২২ আর্থিক বছরে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৭.৭২ লক্ষ টাকা, যা ২০২২-২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩.৫ লক্ষ টাকায়। তবে সম্পত্তির পাশাপাশি আইনি জটও তাঁর পিছু ছাড়েনি। হলফনামা অনুযায়ী, দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা ও খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মোট ২৮টি এফআইআর নথিভুক্ত রয়েছে।
১৯৮০ সালে মাধ্যমিক পাশ করা এই প্রাক্তন আরএসএস প্রচারক ২০১৬ সালে খড়গপুর সদর থেকেই প্রথমবার বিধায়ক হয়ে চমক দিয়েছিলেন। যদিও ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে তাঁকে হারের মুখ দেখতে হয়েছিল, তবুও বিধানসভা নির্বাচনে দল ফের তাঁর পুরনো দুর্গেই আস্থা রেখেছে। শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট নেতারা তাঁর সমর্থনে প্রচারে নামায় খড়গপুর সদরের লড়াই এবার ত্রিমুখী উত্তেজনার দিকে মোড় নিয়েছে। এখন দেখার, এই ‘পুরনো কেল্লা’র দখল তিনি ফিরে পেতে পারেন কি না।