নখ কামড়ানোর অভ্যাস কি কেবলই স্বভাব নাকি মনের কোনো গভীর সংকেত

অনেকেরই ছোটবেলা থেকে নখ কামড়ানোর অভ্যাস থাকে, যা বয়স বাড়লেও অনেক সময় দূর হয় না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রবণতাকে ‘অনিকোফ্যাগিয়া’ (Onychophagia) বলা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি কেবল একটি সাধারণ বদভ্যাস নয়; বরং এর নেপথ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক কারণ। শরীর ও মনের বিশেষ কিছু পরিস্থিতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই মানুষ অজান্তে এই অভ্যাসে আসক্ত হয়ে পড়ে।
মূলত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ নখ কামড়ানোর প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। কর্মক্ষেত্রে প্রচণ্ড চাপ বা কোনো বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলে মানুষ আবেগ নিয়ন্ত্রণের পথ হিসেবে নখ কামড়াতে শুরু করে। এ ছাড়া যারা প্রতিটি কাজে নিখুঁত হতে চান অর্থাৎ ‘পারফেকশনিস্ট’, তারা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলে মানসিক চাপে ভোগেন এবং এই অভ্যাসের আশ্রয় নেন। এমনকি একঘেয়েমি বা অলস সময়েও অনেকে যান্ত্রিকভাবে নখ কামড়ে থাকেন।
চিকিৎসকদের মতে, নখ কামড়ানোর এই প্রবণতা মাঝে মাঝে গুরুতর মানসিক সমস্যার দিকেও ইঙ্গিত করে। এর সাথে অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD), অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার (OCD), বিষণ্নতা বা একাকীত্বের ভয়ের মতো বিষয়গুলো জড়িত থাকতে পারে। তবে নখ কামড়ানো মানেই যে এই রোগগুলো আছে তা নয়, অনেক ক্ষেত্রে এটি একটি দীর্ঘদিনের সাধারণ আচরণগত বৈশিষ্ট্য হিসেবেও থেকে যায়।
নখ কামড়ানোর ফলে হাতের নখের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি নখের কোণে জমে থাকা জীবাণু সহজেই মুখে প্রবেশ করে শারীরিক অসুস্থতা তৈরি করে। এই অভ্যাস ত্যাগ করতে চাইলে একঘেয়েমি কাটানোর চেষ্টা করা বা নিজেকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখা জরুরি। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরেও যদি এই অভ্যাস পরিবর্তন করা না যায়, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী থেরাপি গ্রহণ করা সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে। শরীরের দেওয়া এই ছোট সংকেতগুলোকে অবহেলা না করে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।