চাঁদের পথে আর্টেমিস ২ মিশনে বিপত্তি, মহাকাশে টয়লেট সারিয়ে ‘প্লাম্বার’ হলেন নারী নভোচারী

চাঁদের পথে আর্টেমিস ২ মিশনে বিপত্তি, মহাকাশে টয়লেট সারিয়ে ‘প্লাম্বার’ হলেন নারী নভোচারী

দশকব্যাপী অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নাসা-র ‘আর্টেমিস ২’ মিশন সফলভাবে চন্দ্রাভিযানের অর্ধেক পথ অতিক্রম করেছে। অ্যাপোলো মিশনের পর এই প্রথম মানুষ চাঁদের এত কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হলো। তবে এই ঐতিহাসিক যাত্রার মাঝপথে এক অদ্ভুত ও অস্বস্তিকর সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন নভোচারীরা। মহাকাশযান ‘ওরিয়ন’-এর বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা টয়লেট বিকল হয়ে পড়ায় মহাকাশচারীদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

গত বুধবার উৎক্ষেপণের কিছু সময় পরেই ওরিয়ন ক্যাপসুলের ‘লুনার লু’ নামক টয়লেট ব্যবস্থা আংশিকভাবে অকেজো হয়ে যায়। মূলত বর্জ্য নিষ্কাশনের পাইপে বরফ জমে যাওয়ায় এই বিপত্তি ঘটে, যার ফলে মহাকাশযানের ভেতরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় নারী নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ সাহসিকতার সাথে নিজেই মেরামতের কাজ শুরু করেন এবং সফলভাবে সমস্যাটি সমাধান করেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সফলভাবে টয়লেট সারিয়ে তিনি কৌতুক করে নিজেকে ‘স্পেসবোর্ড প্লাম্বার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মেরামতের কাজ চলাকালীন বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নভোচারীদের ‘ইউরিন কালেকশন ব্যাগ’ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল মিশন কন্ট্রোল।

সুদীর্ঘ ৫৩ বছর পর চাঁদের এত কাছে পৌঁছানো এই চার সদস্যের দলে রয়েছেন ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ, রিড ওয়াইজম্যান এবং জেরেমি হ্যানসেন। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে এবং ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী হিসেবে এই চন্দ্রাভিযানে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন। বর্তমানে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪,০০,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এটি চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ না করে এর পিছনের অংশ দিয়ে ‘ইউ-টার্ন’ নিয়ে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ এপ্রিল মহাকাশযানটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে। ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পুনরায় মানুষ পাঠানোর যে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নাসা নির্ধারণ করেছে, এই মিশনটি তারই প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। মহাকাশচারীরা জানিয়েছেন, যাত্রাপথে এমন ছোটখাটো যান্ত্রিক ত্রুটি স্বাভাবিক এবং এটি তাঁদের আত্মবিশ্বাসে কোনো চির ধরাতে পারেনি। বরং এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ অভিযানের প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *