বাঘের থাবায় সর্বস্বান্ত কুলতলির মৎস্যজীবীরা ক্ষতিপূরণ না মিললেও ঘর বাঁধার স্বপ্নে খুশির হাওয়া

সুন্দরবনের কুলতলি ব্লকের দেউলবাড়ি পঞ্চায়েতের চপাদারপাড়া গ্রামটি ‘বাঘ বিধবাদের গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত। এখানকার শত শত মৎস্যজীবী পরিবার জীবনঝুঁকি নিয়ে মাতলা নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। লখিন্দর সাপুই বা পশুপতি মুখোপাধ্যায়ের মতো অনেকেই বাঘের আক্রমণে পঙ্গু হয়েছেন কিংবা স্বজন হারিয়েছেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও বাঘের কামড়ে আক্রান্ত বা মৃতদের পরিবার কোনো সরকারি ক্ষতিপূরণ পায়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার একরাশ আক্ষেপের মধ্যেই সম্প্রতি আশার আলো দেখছেন এই প্রান্তিক মানুষগুলো। রাজ্য সরকারের বাংলা আবাস যোজনার অধীনে ঘর তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়েছেন লখিন্দর ও পশুপতিরা। জরাজীর্ণ মাটির ঘর ছেড়ে এখন তারা পাকা দালান তৈরির কাজে ব্যস্ত। লখিন্দরের মাথায় বাঘের নখের গভীর ক্ষত থাকলেও, মাথার উপর পাকা ছাদ পাওয়ার আনন্দ তাকে নতুন করে বাঁচার শক্তি জোগাচ্ছে।
আবাস যোজনার পাশাপাশি চপাদার গ্রামে মাতলা নদীর পাড় বরাবর নতুন রাস্তা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। পরিকাঠামোর এই উন্নয়নে স্থানীয় বাসিন্দারা খুশি হলেও তাদের মূল দাবিটি এখনও অমীমাংসিত। বাঘের হানায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী আর্থিক সুরাহা বা সরকারি ক্ষতিপূরণ মিললে সংসার চালানো সহজ হতো বলে মনে করছেন তাঁরা। মৎস্যজীবীদের দাবি, ঘর পাওয়ার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্দিষ্ট সহায়তা দ্রুত কার্যকর করা হোক।