অঘোরী পুজোর নামে অমানবিক অত্যাচার, ভণ্ড বাবার লালসার শিকার গৃহবধূ

অঘোরী পুজোর নামে অমানবিক অত্যাচার, ভণ্ড বাবার লালসার শিকার গৃহবধূ

মহারাষ্ট্রের নাসিকে ‘ক্যাপ্টেন খরাত’ কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই রায়গড় জেলায় এক ভণ্ড বাবার নৃশংস যৌন লালসার শিকার হলেন এক মহিলা। স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থেকে মুক্তি পেতে আধ্যাত্মিক সমাধানের আশায় ওই মহিলা নভি মুম্বইয়ের আব্দুল রশিদ ওরফে ‘বাবাজান’ নামে এক ব্যক্তির শরণাপন্ন হয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অঘোরী পুজোর অছিলায় ওই গৃহবধূর ওপর ভয়াবহ শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালায় ওই ভণ্ড তান্ত্রিক।

মুম্বইয়ের সান্তাক্রুজ এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলা তাঁর স্বামীর পরকীয়া নিয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। অভিযুক্ত বাবাজান তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে, বিশেষ অঘোরী পুজোর মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। সেই মতো রায়গড় জেলার খালাপুর তালুকের একটি নির্জন ফার্মহাউসে মাঝরাতে ওই মহিলাকে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে পুজোর নামে শুরু হয় মধ্যযুগীয় বর্বরতা। নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, অভিযুক্ত তাঁর গোপনাঙ্গ থেকে তরল সংগ্রহ করে একটি সুতোয় মাখিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুজোর দোহাই দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে অশালীনভাবে স্পর্শ করার পাশাপাশি তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই নারকীয় ঘটনার পর ভেঙে না পড়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে খালাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই নির্যাতিতা। পুলিশ তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্ত ভণ্ড বাবা আব্দুল রশিদকে গ্রেফতার করেছে। মহারাষ্ট্র জুড়ে এই ঘটনা তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অন্ধবিশ্বাস ও তুকতাকের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এই ধরনের অপরাধ রুখতে পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *