দুই হাজার কিমি দূরের কলকাতা কি লক্ষ্য হতে পারে পাকিস্তানের? প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সতর্কবার্তায় তুঙ্গে জল্পনা

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তজনা শুরু হয়েছে। শিয়ালকোট থেকে প্রায় ১,৭০০ কিমি আকাশপথ দূরত্বে অবস্থিত কলকাতাকে কেন্দ্র করে তিনি পরোক্ষভাবে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। খাজা আসিফের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের অস্ত্রভাণ্ডারে এমন প্রযুক্তি রয়েছে যা অনায়াসেই কলকাতার মতো দূরবর্তী শহরে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে পাকিস্তানের ‘শাহীন-৩’ (Shaheen-III) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
পাকিস্তানের কৌশলগত অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম শক্তিশালী এই শাহীন-৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ২,৭৫০ কিলোমিটার পাল্লার। অর্থাৎ, এর আওতায় শুধুমাত্র কলকাতা নয়, বরং দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু এমনকি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জও চলে আসে। কঠিন জ্বালানি চালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মোবাইল লঞ্চারের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে উৎক্ষেপণ করা যায় এবং এটি পারমাণবিক ও সাধারণ—উভয় ধরনের যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম। এছাড়াও দেশটির হাতে ‘আবাবিল’ এবং ‘শাহীন-২’ এর মতো উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা ভারতীয় রাডার ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে বলে পাকিস্তান দাবি করছে।
তবে পাকিস্তানের এই আস্ফালনের বিপরীতে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি সুসংহত ও শক্তিশালী। ভারতের হাতে থাকা ‘অগ্নি-৫’ ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে পারে, যা সমগ্র পাকিস্তানকে কয়েকবার প্রদক্ষিণ করার ক্ষমতা রাখে। পাশাপাশি ভারতের মাল্টি-লেয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা এস-৪০০ (S-400)-এর মতো প্রযুক্তি পাকিস্তানের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্রকে সীমান্ত অতিক্রম করার আগেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে জনগণের নজর ঘোরাতে এবং নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করার একটি কৌশল মাত্র। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং ভারতের নিশ্ছিদ্র আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থার সামনে পাকিস্তানের এই ধরণের হুমকি বাস্তবে কার্যকর করা প্রায় আসাম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারতের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রাচীর যেকোনো বহিঃশত্রুর মোকাবিলা করতে সবসময় প্রস্তুত।