এলপিজির বিকল্প এবার ডাইমিথাইল ইথার, রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম থেকে মিলবে কি মুক্তি

এলপিজির বিকল্প এবার ডাইমিথাইল ইথার, রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম থেকে মিলবে কি মুক্তি

রান্নার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এবার এলপিজির (LPG) এক শক্তিশালী ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প নিয়ে আসছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। পুণের ‘সিএসআইআর-ন্যাশনাল কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি’ (NCL)-এর গবেষকরা তৈরি করেছেন ‘ডাইমিথাইল ইথার’ (DME), যা মূলত মিথানল থেকে উৎপাদিত হয়। কয়লা, কৃষি বর্জ্য বা বায়োমাস থেকে এই জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় এটি ভারতের নিজস্ব শক্তিসম্পদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। বিশ্বজুড়ে খনিজ জ্বালানির দ্রুত নিঃশেষ হওয়ার আশঙ্কার মাঝেই এই দেশীয় প্রযুক্তি এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাইমিথাইল ইথার একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং দূষণমুক্ত জ্বালানি। প্রচলিত এলপিজির তুলনায় এটি দহনের সময় অনেক কম পরিমাণ সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং পার্টিকুলেট ম্যাটার নির্গত করে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিদ্যমান রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বা বার্নারে কোনো পরিবর্তন না করেই ২০ শতাংশ পর্যন্ত ডিএমই অনায়াসেই মেশানো সম্ভব। ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS) ইতিমধ্যেই এলপিজির সাথে ২০ শতাংশ পর্যন্ত এই নতুন জ্বালানি মেশানোর নিয়মাবলি চূড়ান্ত করেছে, যা সাধারণ মানুষের রান্নার খরচ কমাতে সহায়ক হবে।

এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রয়োগ শুরু হলে ভারত যে বিপুল পরিমাণ এলপিজি বিদেশ থেকে আমদানি করে, তার ওপর নির্ভরতা অনেকটাই হ্রাস পাবে। এছাড়া কৃষি বর্জ্য থেকে এই জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ থাকায় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিদিন ২৫০ কেজি ডিএমই উৎপাদন করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা এবং পকেটের টান—উভয় সমস্যার সমাধানে এই ‘জাদুকরী’ জ্বালানি আগামী দিনে ভারতের শক্তি খাতের ভোল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *