শতবর্ষী আয়ুর গোপন রহস্য বিকেলের রাতের খাবারেই লুকিয়ে আছে চমকপ্রদ তথ্য

দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনের সন্ধানে মানুষ আদিকাল থেকেই বিভিন্ন পথ খুঁজেছে। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগেও প্রাচীন ঋষি-মুনিদের খাদ্যাভ্যাস যে কতটা কার্যকর, তা ফের প্রমাণিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘায়ু লাভের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হলো সন্ধ্যার আগেই রাতের খাবার বা ডিনার সম্পন্ন করা। বিকেল ৪টে থেকে ৬টার মধ্যে রাতের ভোজ শেষ করলে শরীরে বিষমুক্তকরণ প্রক্রিয়া বা ডিটক্সিফিকেশন ত্বরান্বিত হয়। এর ফলে হজমপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হয়ে শরীরের কোষগুলো পুনর্গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়, যা বার্ধক্য রোধে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
বিজ্ঞানীদের মতে, সন্ধ্যার আগে খাবার খেলে রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে হজম সম্পন্ন হয় এবং পাকস্থলী খালি হয়ে যায়। এই অবস্থায় শরীর থেকে ‘ইনসুলিন-লাইক গ্রোথ ফ্যাক্টর-১’ (IGF-1) নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা অস্থিমজ্জাকে উদ্দীপিত করে নতুন শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি করে। এর ফলে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়। পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ পাকস্থলী খালি থাকলে শরীরে ‘অটোফ্যাগি’ বা কোষের স্বয়ংক্রিয় পরিচ্ছন্নতা প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ায় শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত বা মৃত কোষগুলো অপসারিত হয়ে নতুন কোষ গঠিত হয়, যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সতেজ রাখতে এবং অকাল মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রাচীনকালে মুনি-ঋষিরা দিনে একবার আহার গ্রহণ করতেন এবং দীর্ঘ সময় উপবাসের কারণে তাদের আয়ু দীর্ঘ হতো। আধুনিক গবেষণাও এই তত্ত্বকে সমর্থন করছে। ১৯৮২ সালে আমেরিকার ‘ইনস্টিটিউট অফ এজিং’-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প আহার এবং সঠিক সময়ে আহার গ্রহণের ফলে প্রাণীদের আয়ু প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে কর্মব্যস্ত জীবনে যারা অভ্যস্ত, তাদের জন্য দুপুরের খাবারের বাক্সের পাশাপাশি বিকেলের খাবারের জন্য ফল বা ড্রাই ফ্রুটস সাথে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সঠিক সময়ে আহারের এই অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ কার্যকর।