ট্রাম্পের মন্তব্যে উত্তাল বিশ্ব রাজনীতি, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘পাথরের যুগের’ সঙ্গে তুলনা ইরানের

ট্রাম্পের মন্তব্যে উত্তাল বিশ্ব রাজনীতি, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘পাথরের যুগের’ সঙ্গে তুলনা ইরানের

ইরান ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কুরুচিপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ইরানকে উদ্দেশ্য করে চরম অবমাননাকর শব্দ ব্যবহারের পাশাপাশি হুমকি দিয়েছেন যে, অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী না খুললে তেহরানকে ভয়াবহ পরিণাম ভুগতে হবে। এই বার্তার প্রতিক্রিয়ায় থাইল্যান্ডে অবস্থিত ইরান দূতাবাস সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের আচরণ কিশোরসুলভ এবং আমেরিকাকে দেখে মনে হচ্ছে তারা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগেই ‘পাথরের যুগে’ পৌঁছে গেছে।

হোয়াইট হাউসের এই আগ্রাসী অবস্থানের কড়া সমালোচনা শোনা গেছে খোদ আমেরিকার অন্দরেও। নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর চাক শুমার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যখন গোটা দেশ উৎসবের মেজাজে চার্চে যাচ্ছে, তখন দেশের প্রেসিডেন্ট একজন উন্মাদ ব্যক্তির মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় চিৎকার করছেন। শুমারের মতে, ট্রাম্প সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিয়ে আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোকে দূরে ঠেলে দিচ্ছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের পক্ষ নিয়ে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত গম্ভীর এবং ইরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মঞ্চেও ট্রাম্পের এই অস্থির নীতির সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘সিরিয়াস’ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ বা শান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রতিদিন অবস্থান পরিবর্তন করা সাজে না। তিনি বিষয়টিকে ‘তামাশা’ না বানিয়ে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন। শুধু ইউরোপ নয়, এশিয়ার দেশগুলোতেও ট্রাম্পের মন্তব্যের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাকিস্তানের ইরান দূতাবাস ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের দাবি তুলেছে, অন্যদিকে ভারতের আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা মার্কিন গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান বারবার পরিবর্তন হচ্ছে। গত ২১ মার্চ থেকে তিনি কয়েক দফায় ইরানকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন। প্রথমে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানোর জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিলেও পরবর্তীতে সেই সময়সীমা কখনও ৫ দিন আবার কখনও ১০ দিন করে বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্পের এই স্ববিরোধী আচরণ এবং বারবার সময়সীমা পরিবর্তনকে তার নিজের প্রশাসনের ভেতরেও অনেকে ‘পাগলামি’ হিসেবে দেখছেন। প্রাক্তন কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন সরাসরি ট্রাম্পের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তার অনুসারীদের ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছেন।

সংকট মূলত ঘনীভূত হয়েছে ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকাকে কেন্দ্র করে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ দেওয়া ৬ এপ্রিলের ডেডলাইন পার হওয়ার মুখে উত্তজনা এখন তুঙ্গে। একদিকে সামরিক শক্তির হুমকি এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার চেষ্টার মাঝে দাঁড়িয়ে বর্তমান পরিস্থিতি। ট্রাম্পের ভাষায় যা ‘কহর বর্ষণ’, তা শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে থিতু হবে নাকি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধের দামামা বাজাবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *