কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুকে অপরাধী তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জের: সাসপেন্ড কসবা থানার ওসি

জোর করে জমি দখল ও নির্মাণ ব্যবসায় কালো টাকা বিনিয়োগের অভিযোগে অভিযুক্ত কুখ্যাত দুষ্কৃতী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে ‘অ্যাক্টিভ ক্রিমিনাল লিস্ট’ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগে কসবা থানার ওসি বিশ্বজিৎ দেবনাথকে সাসপেন্ড করল লালবাজার। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রবীন্দ্রসরোবর এলাকায় গুলি চালানোর ঘটনার পরেও পাপ্পুর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কলকাতা পুলিশের একাধিক থানায় তোলাবাজি, খুনের চেষ্টা ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও লালবাজার তাকে গ্রেপ্তারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি ইডির তদন্তে সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০টি জমির দলিল, একটি বিলাসবহুল গাড়ি ও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সে জমির মালিকদের আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে জোরপূর্বক জয়েন্ট ভেনচার প্রজেক্টে সই করাত। পাপ্পুর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে পুলিশের বেশ কয়েকজন আধিকারিকের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের একাংশের মদতেই সে শহরজুড়ে দাপিয়ে বেড়াত এবং এমনকি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সও জোগাড় করেছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, অপরাধী তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় পাপ্পুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই সুযোগেই সে কসবা, তিলজলা ও যাদবপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জমি দখলের সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। পুলিশের শীর্ষ মহলের মতে, কসবা থানার ওসির এই গাফিলতি বা যোগসাজশ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। বর্তমানে অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু পলাতক থাকলেও লালবাজার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে এবং এই চক্রে জড়িত অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।