বকেয়া ডিএ মেটাতে ১৮০ দিনের সময়সীমা নবান্নের! সরকারি কর্মীদের জন্য এল বিরাট সুখবর

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানো নিয়ে বড় ঘোষণা করল নবান্ন। অর্থ দপ্তরের সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে কর্মীদের সমস্ত বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান এবং প্রশাসনিক টানাপোড়েনের পর রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এর আগে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া টাকা ৩১ মার্চের মধ্যে একবারে মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা ইতিপূর্বেই কার্যকর হয়েছে।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট ডিএ-কে কর্মীদের ‘আইনগত অধিকার’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া পাওনার অন্তত ২৫ শতাংশ ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে মেটাতে হবে। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশ ও কর্মীদের লাগাতার আন্দোলনের চাপেই নবান্ন এই চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পঞ্চায়েত, পুরসভা ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যে সমস্ত কর্মচারীরা আগে বকেয়া পাননি, এবার তাঁরাও এই সুবিধার আওতায় আসতে চলেছেন।
প্রক্রিয়াটি নির্ভুল ও দ্রুত সম্পন্ন করতে নবান্ন প্রতিটি কর্মীর ‘ই-সার্ভিস বুক’ বা সার্ভিস রেকর্ড ডিজিটাল করার কাজ ২০ মার্চের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল। এ ছাড়া মৃত সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগীদের বকেয়া টাকা যাতে তাঁদের মনোনীত উত্তরাধিকারীরা পান, তার জন্য একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে অর্থ দপ্তর। পাওনা দাবি করার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারির ১৮০ দিনের মধ্যে উত্তরাধিকারীদের আবেদন জানাতে হবে। পেনশনভোগীদের টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
রাজ্য বাজেটে আরও ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির পর বর্তমানে এই হার দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশে। তবে কেন্দ্রীয় হারের তুলনায় ব্যবধান থাকলেও বকেয়া মেটানোর এই ১৮০ দিনের ডেডলাইন কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে। ট্রেজারি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে দ্রুত হিসাব কষার নির্দেশ দিয়ে নবান্ন জানিয়েছে, ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। কর্মীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তাঁরা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি ও নমিনি সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করে রাখেন।