পাকিস্তানে ধসে পড়ল রাজ কাপুরের পৈতৃক ভিটে, ধবংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে ১০০ বছরের পুরনো ইতিহাস

পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ কাপুরের স্মৃতিবিজড়িত পৈতৃক প্রাসাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিনের একটানা ভারী বৃষ্টি এবং শুক্রবার রাতে অনুভূত হওয়া শক্তিশালী ভূমিকম্পের জেরেই এই ঐতিহাসিক ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা এই অট্টালিকাটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধাক্কা সইতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে কাপুর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
খাইবার পাখতুনখোয়া হেরিটেজ কাউন্সিলের সচিব শাকিল ওয়াহিদুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের প্রভাবে প্রাসাদের দেওয়ালের একটি অংশ ধসে যাওয়ায় পুরো ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। যদিও এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাকি অংশটুকু রক্ষার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রায় ১০০ বছরের প্রাচীন এই স্থাপত্যটি দীর্ঘদিন ধরেই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধুঁকছিল।
এই বিশালাকার প্রাসাদটি ১৯১৮ থেকে ১৯২২ সালের মধ্যে নির্মাণ করেছিলেন রাজ কাপুরের পিতামহ দেওয়ান বাশ্বেশ্বরনাথ। প্রায় ৪০টি ঘর বিশিষ্ট এই অট্টালিকাটি পৃথ্বীরাজ কাপুরের অভিনয় জীবনের সূচনালগ্ন এবং রাজ কাপুর ও ত্রিলোক কাপুরের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর কাপুর পরিবার মুম্বাই পাড়ি দিলেও এই বাড়ির প্রতি তাঁদের টান কমেনি। ১৯৯০-এর দশকে ঋষি কাপুর ও রণধীর কাপুর এই পৈতৃক ভিটে পরিদর্শন করেছিলেন এবং সেখানে একটি জাদুঘর তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।
২০১৬ সালে পাকিস্তান সরকার এই ভবনটিকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করলেও সংস্কার কাজ সেভাবে এগোয়নি। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এই অট্টালিকার গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে এর একাংশ ধসে পড়ার ঘটনাটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর এক বড় আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ধ্বংসের হাত থেকে এই ঐতিহাসিক সম্পত্তিকে বাঁচাতে পাকিস্তান সরকার বা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ পুনরায় কোনও সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করে কি না।