ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি ইরানকে ধ্বংস করতে প্রস্তুত আমেরিকা, আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা

ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি ইরানকে ধ্বংস করতে প্রস্তুত আমেরিকা, আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা বর্তমানে বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দেওয়া পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে শেষ আল্টিমেটাম জারি করেছেন। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ইরানের হাতে এখন মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত সময় রয়েছে, যা ভারতীয় সময় অনুযায়ী বুধবার ভোর ৫:৩০ মিনিট। এই সময়সীমার মধ্যে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে আমেরিকা বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুই দেশের মধ্যে এই উত্তেজনার মূল কারণ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি প্রায় বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, যদি ইরান দ্রুত কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে আমেরিকা ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং দেশটির মূল পরিকাঠামো লক্ষ্য করে বিধ্বংসী হামলা চালাতে দ্বিধাবোধ করবে না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু কড়া বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি শুধুমাত্র “মঙ্গলবার, রাত ৮:০০ টা ইস্টার্ন টাইম!” লিখে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণ ইরানকে এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত করবে যে, দেশটির পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে কয়েক দশক সময় লেগে যেতে পারে। এই কড়া বার্তার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশ তাদের শক্তির প্রয়োজনে এই সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্প অবশ্য ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা চলছে এবং সোমবারের মধ্যে কোনো ইতিবাচক সমাধান আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ইরান ইতিমধ্যে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে।

এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইরান যদি আমেরিকার শর্তগুলো মেনে নেয়, তবে এই সংঘাত কয়েক দিনের মধ্যেই মিটে যেতে পারে। তবে মঙ্গলবার রাতের ডেডলাইন অতিক্রান্ত হলে যে ভয়াবহ সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই সতর্কতাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আপাতত আগামী ২৪ ঘণ্টা গোটা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *