গলসিতে পুরনো কেন্দ্রে ফেরায় আত্মবিশ্বাসী অলোক মাঝি, লড়াইয়ে মরিয়া বাম ও বিজেপি

গলসি বিধানসভা কেন্দ্রে আসন্ন নির্বাচনে ঘাসফুল শিবিরের তুরুপের তাস প্রাক্তন বিধায়ক অলোক মাঝি। ২০১৬ সালের জয়ী প্রার্থীকে জামালপুর থেকে পুনরায় নিজের পুরনো কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনায় তৃণমূল শিবিরে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। অলোক মাঝির দাবি, এলাকার প্রতিটি গ্রাম ও মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের নিবিড় পরিচয় এবং সরকারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজই তাঁকে জয়ের পথে এগিয়ে রাখবে। বিশেষত তফসিলি অধ্যুষিত এই এলাকায় রাজ্যের ‘কৃষকবন্ধু’ ও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
অন্যদিকে, হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে বাম ও বিজেপি। সিপিএম প্রার্থী মণিমালা দাস অতীতে জেলা পরিষদের অভিজ্ঞতায় শান দিয়ে ভোটব্যাঙ্ক ফেরাতে জনসংযোগে জোর দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, বিজেপি ও তৃণমূলের বিকল্প হিসেবে মানুষ এবার বামেদেরই বেছে নেবে। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কৃষি ও কর্মসংস্থানে অবহেলার অভিযোগ তুলে মানুষের ক্ষোভকে পুঁজি করতে চাইছেন। তাঁর মতে, ধান উৎপাদনে সমৃদ্ধ এই এলাকায় সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে কৃষকরা বর্তমানে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।
তফসিলি ভোটব্যাঙ্ক এবারের নির্বাচনে গলসির ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করবে। ২০২১ সালের পরিসংখ্যানে তৃণমূলের আধিপত্য থাকলেও এবার বাম ও বিজেপির ত্রিমুখী লড়াইয়ে ফল কী হয়, সেটাই দেখার। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ সেচ ব্যবস্থার উন্নতি ও সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগে খুশি হলেও বিজেপি বিরোধী হাওয়ায় নিজেদের ঘর গোছাতে চাইছে। ফরওয়ার্ড ব্লকের পরিবর্তে এবার সিপিএম সরাসরি ময়দানে নামায় লড়াই আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তিন পক্ষই ভোটারদের মন জয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে।