সমুদ্রে স্নান করতে নেমে মর্মান্তিক মৃত্যু অভিনেতা রাহুলের, কোন শারীরিক সমস্যা থাকলে সৈকতে নামা বিপজ্জনক

ওড়িশার তালসারির সমুদ্রে শুটিং চলাকালীন তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারালেন জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র ৪২ বছর বয়সে অভিনেতার এই আকস্মিক প্রয়াণ বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। তবে এই দুর্ঘটনা ফের একবার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং শারীরিক সতর্কতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সমুদ্রে নামার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং পরিবেশের ঝুঁকি বুঝে নেওয়া একান্ত জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে সমুদ্রের ঠান্ডা জল এবং ঢেউয়ের ধাক্কা বিপজ্জনক হতে পারে। এর ফলে হঠাৎ হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা রক্তচাপ অস্বাভাবিক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়াও যাদের হাঁজল বা শ্বাসকষ্ট রয়েছে, উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে তাদের শ্বাসক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। মৃগী বা ফিট হওয়ার প্রবণতা থাকলে জলের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারানো মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও হঠাৎ সুগার কমে গিয়ে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) জ্ঞান হারানোর প্রবল আশঙ্কা থাকে।
শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ভৌগোলিক কারণও এই ধরণের দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। তালসারি বা দিঘার মতো সৈকতে প্রায়শই বালির নিচে চোরা গর্ত বা ‘রিপ কারেন্ট’ থাকে, যা পর্যটকদের চোখের পলকে গভীর সমুদ্রে টেনে নিয়ে যেতে পারে। এছাড়া জোয়ার-ভাঁটার সঠিক সময় না জেনে সমুদ্রে নামলে বিপদের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভাঁটার সময় জলের টানে গভীর সমুদ্রে চলে যাওয়ার ঝুঁকি সবথেকে বেশি থাকে।
নিরাপদ থাকতে পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশিকা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাঁতার না জানলে বা শারীরিক দুর্বলতা থাকলে গভীর জলে যাওয়া একদম উচিত নয়। অসুস্থ বোধ করলে সমুদ্রে নামার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং স্থানীয় নুলিয়া বা পুলিশের সতর্কতা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কোনোভাবেই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বা একা নির্জন সৈকতে স্নান করা উচিত নয়। সচেতনতা এবং সঠিক সতর্কতাই পারে সমুদ্র ভ্রমণের আনন্দকে সুরক্ষিত রাখতে।