অকালেই কি কমছে চোখের জ্যোতি? দৃষ্টিশক্তি ও তারুণ্য ধরে রাখতে মেনে চলুন এই জরুরি নিয়মগুলো
বর্তমান ডিজিটাল যুগে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে কম বয়সেই চোখের নানাবিধ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অকাল বার্ধক্য, শুষ্ক চোখ (Dry Eye) কিংবা ছানি পড়ার মতো ঝুঁকি এড়াতে শুধুমাত্র ড্রপ ব্যবহার যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের অকাল বার্ধক্য রুখতে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বিশেষ করে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা, নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসই পারে চোখের দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে।
দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পালং শাক, ব্রকলি ও গাজরের মতো সবুজ শাক-সবজি রাখা প্রয়োজন, যাতে থাকা ল্যুটেন এবং জিক্সানথিন চোখকে ক্ষতিকারক নীল আলো থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি ভিটামিন সি, ই এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার যেমন—টক জাতীয় ফল ও বাদাম চোখের কোষের ক্ষয় রোধ করে। এছাড়া রক্তচাপ ও সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা বাঞ্ছনীয়, কারণ অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোর অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে।
দৈনন্দিন অভ্যাসের ক্ষেত্রে ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত কার্যকর। কম্পিউটার বা মোবাইলে কাজ করার সময় প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকলে চোখের পেশি আরাম পায়। বাইরে বেরোলে অবশ্যই UV 400 প্রোটেকশন যুক্ত সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত, যা ছানি ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি ধূমপান বর্জন এবং পর্যাপ্ত ঘুম চোখের স্নায়ুকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
চোখের বাহ্যিক যত্নের জন্য কাজের ফাঁকে বারবার চোখের পলক ফেলা এবং স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখা জরুরি। মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি চোখের চারপাশের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে বিশেষ ব্যায়াম বা ফেস ইয়োগা করা যেতে পারে। বছরে অন্তত একবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারা চোখ পরীক্ষা (Dilated Eye Exam) করালে যেকোনো গুরুতর সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এই স্বাস্থ্যবিধিগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে বয়সের সাথে সাথে চোখের সমস্যাগুলো অনেকাংশেই দূরে রাখা সম্ভব।