ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা, আণবিক বিপর্যয়ের মুখে উপসাগরীয় দেশগুলো

ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা, আণবিক বিপর্যয়ের মুখে উপসাগরীয় দেশগুলো

ইরান ও আমেরিকার মধ্যবর্তী উত্তেজনা এখন এক চরম ও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিশ্বজুড়ে পরমাণু বিপর্যয়ের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই নজিরবিহীন হামলার প্রতিবাদে ইরান ইতিমধ্যেই জাতিসংঘে জরুরি চিঠি পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, বুশেহর কেন্দ্রে হামলার ফলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব ইরানের চেয়েও বেশি পড়বে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। ভৌগোলিক অবস্থান ও বায়ুর গতির কারণে এই তেজস্ক্রিয় ধোঁয়া তেহরানের তুলনায় দ্রুত পারস্য উপসাগর পেরিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতের মতো দেশগুলোতে পৌঁছে যেতে পারে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন। কারণ এসব দেশের পানীয় জলের প্রধান উৎস হলো সমুদ্রের জল। তেজস্ক্রিয়তার কারণে সমুদ্রের জল দূষিত হলে তা ইতিহাসের ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। শনিবার ভোরে বুশেহর প্ল্যান্টের কাছে চতুর্থবারের মতো চালানো হামলায় একজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন না মিললেও, সচল পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)। সংস্থাটি মনে করছে, এ ধরনের হামলা সমগ্র মানবজাতিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার চরমসীমা শেষ হওয়ার আগেই এই সামরিক তৎপরতা উত্তেজনাকে তুঙ্গে নিয়ে গেছে।

এই সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্ব বাজারে অনুভূত হচ্ছে। পরমাণু বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং পণ্যবাহী জাহাজগুলো এই রুট এড়িয়ে চলছে। রাশিয়া ও চীন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। পশ্চিম এশীয় দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়িত না থাকলেও তেজস্ক্রিয় বিকিরণের অদেখা থাবায় এখন গভীর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *