ইরানের শত্রুঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনার রোমহর্ষক উদ্ধার অভিযান

ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভেঙে পড়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে উদ্ধার করেছে আমেরিকা। শুক্রবার দক্ষিণ ইরানে বিমানটি শত্রুসেনার গুলিতে বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই ওই সেনার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছিল। ২০ বছরেরও বেশি সময় পর এই প্রথম কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান যুদ্ধের ময়দানে ধ্বংস হলো। বিমানে থাকা পাইলট আগেই উদ্ধার পেলেও দ্বিতীয় ক্রু সদস্য দীর্ঘ সময় ইরানের পাহাড়ে লুকিয়ে জীবন রক্ষা করেন।
রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এই সফল অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের গভীর পাহাড় থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই সেনাকে উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, সিআইএ-র গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পেন্টাগন নিখোঁজ সেনার সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করে। এরপর স্পেশাল ফোর্সের কয়েক ডজন জওয়ান এবং অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার নিয়ে শুরু হয় ‘ড্রামাটিক রেসকিউ অপারেশন’।
এই উদ্ধার কার্য চলাকালীন পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। একদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং স্থানীয়রা ওই সেনার ওপর ঘোষিত ৬২ লক্ষ টাকার পুরস্কার পেতে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছিল, অন্যদিকে মার্কিন সেনারা তাকে রক্ষায় মরিয়া ছিল। ইরানের সেনারা যাতে ওই সেনার অবস্থান পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য মার্কিন বিমান থেকে ইরানি অবস্থানের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও গুলিবর্ষণ করা হয়।
পুরো মিশনটি অত্যন্ত জটিল ছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দলের দুটি পরিবহন বিমান যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কারণে শত্রুঘাঁটি থেকে আর উড়তে পারেনি। গোপন নথি ও প্রযুক্তি যাতে ইরানের হাতে না পড়ে, সে জন্য মার্কিন বাহিনী নিজেদেরই ওই দুটি বিমান ধ্বংস করে দেয়। শেষ পর্যন্ত তিনটি অতিরিক্ত বিমানের সহায়তায় স্পেশাল ফোর্স ওই সেনাকে নিয়ে নিরাপদে প্রস্থান করে। ইরান অবশ্য দাবি করেছে, তারা মার্কিন ড্রোন ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করে তাদের এই অভিযান ব্যর্থ করেছে।
বর্তমানে উদ্ধারকৃত সেনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুয়েতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আমেরিকা তাদের কোনো যোদ্ধাকে শত্রুর এলাকায় ফেলে আসে না—এই ঐতিহ্য রক্ষা করতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অপারেশনটি চালানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ইরানের ভেতরে ঢুকে এই উদ্ধার অভিযান মার্কিন সামরিক শক্তির পাশাপাশি অত্যন্ত নিপুণ রণকৌশলের পরিচয় দিয়েছে।