মাঝ আকাশে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারের সামনে ড্রোন, মালদহে মমতার নিরাপত্তায় বড়সড় গলদ

নির্বাচনী আবহে ফের একবার বড়সড় নিরাপত্তা বিভ্রাটের মুখে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদহের সামসীতে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারের একেবারে সামনে আচমকা একটি ড্রোন চলে আসায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সভা শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী যখন কপ্টারে উঠতে যাচ্ছিলেন, তখনই ড্রোনটি তাঁর মাথার ওপর উড়তে দেখা যায়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেত্রী হ্যান্ড মাইকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ড্রোনের আঘাতে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযুক্তদের অবিলম্বে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরপরই পুলিশ সক্রিয় হয়ে বিহারের কাটিহারের বাসিন্দা তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে। ধৃত অঙ্কিতকুমার পাসোয়ান, শ্রীকান্ত মণ্ডল ও নূর আখতারকে জেরা করে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃতদের দাবি, তাঁরা স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের কাজ করছিলেন। মূলত প্রচারের সেরা ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তাঁরা ড্রোনটি হেলিকপ্টারের অত্যন্ত কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। এমনকি ড্রোন ওড়ানো যে অপরাধ হতে পারে, সে বিষয়ে তাঁদের কোনো ধারণা ছিল না বলেও দাবি করেছেন ধৃতরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাই-সিকিউরিটি জোনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আকাশপথে মমতার এই ধরণের বিপত্তি এই প্রথম নয়। গত ২৬ মার্চ ঝড়ের কবলে পড়ে তাঁর বিমান দীর্ঘক্ষণ আকাশে চক্কর কেটেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ড্রোনের এই উপস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার চূড়ান্ত ব্যর্থতা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও ধৃতদের দলীয় কর্মী হিসেবে এখনও তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তবে গোটা ঘটনায় প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।