অসুস্থতার গুজব উড়িয়ে জনসমক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইস্টার সানডেতে চার্চে না যাওয়ায় বাড়ছে রহস্য

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জোরালো গুজবের অবসান ঘটিয়ে আবারও জনসমক্ষে উপস্থিত হলেন তিনি। গত কয়েকদিন ধরে ট্রাম্পকে হাসপাতালে ভর্তি করার খবর ছড়িয়ে পড়লেও হোয়াইট হাউস সেই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে। দীর্ঘ নীরবতার পর রবিবার ওয়াশিংটনের রাস্তায় তার কনভয় দেখা যাওয়ায় ধোঁয়াশা কিছুটা কেটেছে।
রবিবার ইস্টার সানডে উপলক্ষে প্রথা অনুযায়ী চার্চে প্রার্থনা করতে যাননি ট্রাম্প, যা মূলত এই জল্পনার কেন্দ্রে ছিল। তবে ওই দিন বিকেলেই ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টার্লিংয়ে অবস্থিত ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব থেকে তাকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। গলফ খেলার পোশাকে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফেরার ছবিও ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। ১ এপ্রিলের পর কোনো বড় জনসভায় তাকে দেখা না যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
এর আগে শনিবার হোয়াইট হাউস সাফ জানিয়ে দেয় যে, ট্রাম্পের ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। র্যাপিড রেসপন্স টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট বেশ কয়েকদিন জনসমক্ষে না আসায় একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই গুজব ছড়িয়েছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে যে, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন এবং ওভাল অফিসে নিজ কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
৭৯ বছর বয়সী এই নেতার অসুস্থতার খবরটি মূলত এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মের একটি পোস্টের মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হয়েছিল যে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। পরে ফ্যাক্ট-চেক করে দেখা যায়, ওই ভিডিওটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসের একটি পুরোনো ঘটনার। এই বিভ্রান্তির মাঝেই হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে মেরিন গার্ডদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে যে প্রেসিডেন্ট ভেতরেই অবস্থান করছেন।
শারীরিক অসুস্থতার খবর ছড়ালেও ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো সক্রিয় ছিলেন। ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তার পাশাপাশি শত্রু কবল থেকে মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সদস্যকে উদ্ধারের সফল অভিযানের প্রশংসা করেছেন তিনি। সব জল্পনার অবসান ঘটাতে সোমবার দুপুরে হোয়াইট হাউসে একটি সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তির দাবিটি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলেও বড় ধর্মীয় উৎসবে তার অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা জারি রয়েছে।