নিজের ব্যবসা শুরু করে মোটা টাকা আয়ের সুযোগ, গ্যাস এজেন্সি খোলার সহজ পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা!
বর্তমান সময়ে একটি লাভজনক ও স্থায়ী ব্যবসার কথা ভাবলে এলপিজি (LPG) গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরশিপ অন্যতম সেরা বিকল্প হতে পারে। ভারতের ঘরে ঘরে রান্নার গ্যাসের বিপুল চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে আপনিও হতে পারেন একজন সফল উদ্যোক্তা। ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম বা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো কেন্দ্রীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলোর অধীনে গ্যাস এজেন্সি খোলার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও সহজতর করা হয়েছে।
গ্যাস এজেন্সি পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে এবং বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম দশম শ্রেণী পাশ হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে তেল সংস্থার কোনো কর্মীর পরিবারের সদস্য এই ডিস্ট্রিবিউটরশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এছাড়া একটি শোরুম বা অফিস এবং সিলিন্ডার মজুত রাখার জন্য অগ্নিনির্বাপক আইন মেনে বড় গোডাউন তৈরির উপযুক্ত জমি থাকতে হবে। এই জমি নিজের নামে বা দীর্ঘমেয়াদী লিজে থাকা প্রয়োজন।
আবেদন প্রক্রিয়াটি মূলত অনলাইন ভিত্তিক। আগ্রহী প্রার্থীদের lpgvitarakchayan.in পোর্টালে গিয়ে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে হয়। তেল সংস্থাগুলো নিয়মিত সংবাদপত্রে ও ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দিলে সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকার জন্য আবেদন করা যায়। অনলাইন ফর্ম পূরণ, প্রয়োজনীয় নথি আপলোড এবং আবেদন ফি জমা দেওয়ার পর সংস্থাগুলো জমির ভেরিফিকেশন করে। যদি একই এলাকার জন্য একাধিক যোগ্য আবেদনকারী থাকেন, তবে লটারির মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটর নির্বাচন করা হয়।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এলাকাভেদে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিকিউরিটি ডিপোজিট প্রয়োজন হতে পারে। এর পাশাপাশি পরিকাঠামো নির্মাণ, গাড়ি ও কর্মী নিয়োগের খরচ তো রয়েছেই। আয়ের মূল উৎস হলো প্রতিটি সিলিন্ডার ডেলিভারির বিপরীতে নির্দিষ্ট কমিশন। এছাড়া নতুন কানেকশন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক পরিষেবা থেকেও মোটা টাকা উপার্জনের সুযোগ থাকে। সঠিক পরিকল্পনা ও বৈধ নথিপত্র থাকলে এই ব্যবসার মাধ্যমে নিজের পায়ে দাঁড়ানো সম্ভব।