ভোটের ময়দানে এবার ‘হরিণ ভুটুদা’, ঝাড়গ্রামে ভোটার সচেতনতায় অভিনব ম্যাসকট প্রশাসনের

ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের এক অনন্য উদ্যোগে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সচেতন করতে বিশেষ ম্যাসকট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ‘হরিণ ভুটুদা’। জঙ্গলমহলের সাধারণ মানুষের বন্যপ্রাণের প্রতি যে চিরাচরিত আবেগ ও ভালোবাসা রয়েছে, তাকে পাথেয় করেই এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ বৃদ্ধি এবং নির্ভয়ে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রামের সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে হরিণের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই প্রাণীটি অত্যন্ত প্রিয়। সেই ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ‘ভুটুদা’র মাধ্যমে গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এর ফলে জঙ্গলমহলের প্রান্তিক গ্রামগুলিতে ভোটার সচেতনতা আরও ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে ভোটারদের বুথমুখী করতে জেলাজুড়ে প্রচার চালাবে এই ম্যাসকট। বিশেষ করে তরুণ ও প্রথমবার ভোট দিতে চলা ভোটারদের মধ্যে ‘হরিণ ভুটুদা’কে নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। পোস্টার, ব্যানার এবং জনসমক্ষে প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত করা হচ্ছে।
প্রশাসনের আধিকারিকরা মনে করছেন, গতানুগতিক প্রচারের চেয়ে ম্যাসকটভিত্তিক এই জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অনেক বেশি কার্যকরী হবে। গ্রামীণ এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছাতে ‘ভুটুদা’র আবেদন বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। কোনো রকম প্ররোচনা বা ভীতি প্রদর্শন ছাড়াই যাতে প্রত্যেকে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে পারেন, সেটিই এই প্রচারের মূল লক্ষ্য।
বিগত বছরগুলির তুলনায় ঝাড়গ্রামে এবার ভোটদানের হার বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। বন্যপ্রাণ এবং মানুষের যে সহাবস্থান এই অঞ্চলে দেখা যায়, তাকেই ভোটারদের সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের এই উদ্ভাবনী ভাবনা ইতিমধ্যে জেলার সর্বত্র বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সামগ্রিকভাবে, ‘হরিণ ভুটুদা’র উপস্থিতি এবারের নির্বাচনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জঙ্গলমহলের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। এই ম্যাসকটের হাত ধরেই জঙ্গলমহলের মানুষ গণতন্ত্রের উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হবেন বলে আত্মবিশ্বাসী সংশ্লিষ্ট মহল।