৩১ মে পর্যন্ত তেল আভিভগামী সমস্ত বিমান বাতিল করল এয়ার ইন্ডিয়া

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত ইজরায়েলের তেল আভিভগামী সমস্ত বিমান পরিষেবা বাতিলের ঘোষণা করা হয়েছে। আকাশপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যাত্রীদের সুরক্ষা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মূলত ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে আকাশপথ এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে মুহুর্মুহু ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ মনে করছে যে এই মুহূর্তে ওই রুটে বিমান চালানো যাত্রীদের জীবনের জন্য ঝুঁকি হতে পারে। ফলে দ্রুত পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
বিমান পরিষেবা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ইজরায়েলে কর্মরত ও বসবাসকারী প্রায় ৪০ হাজার ভারতীয় নাগরিক। সরাসরি বিমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তাঁদের বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা জরুরি প্রয়োজনে ভারতে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিমান বাতিলের সিদ্ধান্তে তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে স্থানীয় ভারতীয় দূতাবাস। সরাসরি বিমান না থাকায় বর্তমানে ভারতীয়দের জর্ডন অথবা মিশর হয়ে বিকল্প পথে দেশে ফেরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়েছে যে, আটকে পড়া নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। ভবিষ্যতে আকাশপথ নিরাপদ মনে হলে এবং পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে বিমান চলাচল পুনরায় শুরুর বিষয়ে বিবেচনা করা হবে। তবে বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ৩১ মে পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকছে। সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত বা অন্য সুবিধাসমূহ নিয়ে সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।