রতুয়ায় মিম ও আমজনতা জোটের হুঙ্কার, তৃণমূল এবং বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে প্রচারে প্রার্থী

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মালদহ জেলার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। জেলার রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবার প্রথাগত সমীকরণ বদলে দিয়ে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ডাক দিয়েছে অল ইন্ডিয়া মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (AIMIM) এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি। শুক্রবার রতুয়ার দেবীপুর অঞ্চলের বাহির কাপ এলাকায় জোটের প্রার্থী রয়েল ইসলামের সমর্থনে এক বিশাল প্রচার কর্মসূচি পালিত হয়, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনী প্রচারে জোটের সংহতি প্রদর্শনে রতুয়া ১ নম্বর ব্লক মিম সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর এবং প্রার্থী রয়েল ইসলামকে দিনভর একযোগে প্রচার করতে দেখা যায়। দেবীপুর অঞ্চলের অলিতে-গলিতে কখনো পদযাত্রার মাধ্যমে, আবার কখনো টোটোতে চড়ে তাঁরা সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছান। সাতসকালে চায়ের দোকানে জনসংযোগ থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকদের আশীর্বাদ নেওয়া—ভোটের ময়দানে কোনো সুযোগই হাতছাড়া করতে নারাজ এই জোটের কর্মীরা।
বিরোধী শিবির তৃণমূল ও বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ শানিয়ে রয়েল ইসলাম রতুয়ার দীর্ঘদিনের অনুন্নয়নকে প্রধান হাতিয়ার করেছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রতুয়ায় একটি আধুনিক দমকল কেন্দ্র স্থাপন, সামসি রেলগেটের যানজট নিরসনে ওভারব্রিজ নির্মাণ এবং সাধারণ পরিবারের সন্তানদের জন্য উন্নত মানের ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরি করা। এছাড়াও ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রশাসনিক ও আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
তৃণমূল ও বিজেপির মতো শক্তিশালী দুই পক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই প্রসঙ্গে রয়েল ইসলাম জানান যে, মানুষ আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করছে না এবং তারা প্রকৃত উন্নয়ন চায়। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ব্যাপক সাড়া তাঁদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। শেখ জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে মিম কর্মীদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ রতুয়া বিধানসভায় জোটের জমি আরও শক্ত করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে এই জোটের রসায়ন ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে।