৯ বছরের কঠোর পরিশ্রম শেষে ছাঁটাইয়ের ইমেল, মায়ের কাছে সত্যি লুকোতে ক্যাফেতে দিন কাটছে যুবকের

বেঙ্গালুরু তথা দেশের আইটি সেক্টরে বর্তমানে যে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রবল ঝড় বইছে, তার করুণ প্রভাব পড়ছে হাজার হাজার মধ্যবিত্ত পরিবারে। সম্প্রতি টেক জায়ান্ট ওরাকল বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বলি হওয়া এক যুবকের মর্মস্পর্শী কাহিনী বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যা চোখে জল এনেছে নেটিজেনদের।
বিগত ৯ বছর ধরে ওই যুবক অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে একই সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। কিন্তু একদিন ভোর ৬টায় আসা একটি সংক্ষিপ্ত ইমেল তাঁর দীর্ঘ প্রায় এক দশকের পরিশ্রমকে এক লহমায় ধূলিসাৎ করে দেয়। ইমেল আসার মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর অফিস ল্যাপটপটি লক করে দেওয়া হয় এবং কো ম্পা নির সমস্ত যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
হঠাৎ কাজ হারিয়ে যুবকটি এতটাই ভেঙে পড়েন যে, বাড়িতে অসুস্থ মায়ের কাছে এই দুঃসংবাদটি দেওয়ার সাহস সঞ্চয় করতে পারেননি। প্রতিদিনের মতো সকালে অফিসের পোশাক পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন তিনি। মা যখন হাসিমুখে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার অনুরোধ করতেন, তখন সেই ভালোবাসার সামনে দাঁড়িয়ে বুক ফেটে কান্না এলেও কঠিন সত্যটি গোপন রাখতে হতো তাঁকে।
অফিসে যাওয়ার বদলে গত তিন দিন ধরে তিনি একটি ক্যাফেতে বসে একাকী সময় অতিবাহিত করেছেন। বাড়ির কেউ যেন বুঝতে না পারে তিনি কর্মহীন, তাই অফিস টাইম শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অপেক্ষা করতেন। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে নিজের বাবাকে সত্যিটা জানান। সেই মুহূর্তে বাবাকে সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে আগামী দিনে পরিবার কীভাবে চলবে, সেই চিন্তায় মগ্ন হতে দেখে তিনি মধ্যবিত্তের অসহায়তা অনুভব করেন।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের দোহাই দিয়ে যেভাবে সাধারণ কর্মীদের বলির পাঁঠা করা হচ্ছে, তা নিয়ে নেটদুনিয়ায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। লভ্যাংশ বাড়ানোর নেশায় টেক সংস্থাগুলি মানুষের আবেগ ও বছরের পর বছর দেওয়া শ্রমের কোনো মূল্য দিচ্ছে না বলেই দাবি করছেন ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। যুবকের এই জীবনযুদ্ধ আইটি পেশাদারদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।