রাহুল গান্ধীর অবস্থানে ক্ষুব্ধ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতারা, মোদী সরকারের পাশে শশী থারুর ও কমল নাথ

রাহুল গান্ধীর অবস্থানে ক্ষুব্ধ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতারা, মোদী সরকারের পাশে শশী থারুর ও কমল নাথ

জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার চরমে পৌঁছেছে। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ এবং রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ইস্যুতে রাহুল গান্ধী যখন কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ শানাতে ব্যস্ত, তখন খোদ তাঁর দলের নেতারাই সেই অবস্থানে ভিন্নমত পোষণ করছেন। বর্ষীয়ান নেতাদের এই পাল্টা সুর কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ফাটল হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিদেশনীতির প্রশ্নে রাহুল গান্ধীকে কার্যত অস্বস্তিতে ফেলেছেন শশী থারুর, আনন্দ শর্মা এবং মনীশ তিওয়ারির মতো নেতারা। ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনায় কেন্দ্রের বিদেশনীতিকে রাহুল ‘দুর্বল’ বলে কটাক্ষ করলেও, থারুর একে ‘দায়িত্বশীল কূটনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আনন্দ শর্মার মতে, আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে ভারত অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে, যা রাহুলের রাজনৈতিক অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

অভ্যন্তরীণ বিষয়েও একই চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে বলে দলের হাইকম্যান্ড অভিযোগ তুললেও মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দেশ বা রাজ্যে কোথাও গ্যাসের ঘাটতি নেই; এগুলি নিছকই রটানো গুজব। হাইকম্যান্ডের দাবির বিরুদ্ধে তাঁর এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই কংগ্রেসের এই অভ্যন্তরীণ বিরোধকে হাতিয়ার করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, কংগ্রেস নেতারাই যখন প্রকৃত সত্য মেনে নিয়েছেন, তখন রাহুল গান্ধীর উচিত মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধ করা। বিজেপির দাবি, রাহুল গান্ধী শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে অসত্য প্রচার করছেন, যা তাঁর নিজের দলের নেতারাই প্রমাণ করে দিয়েছেন।

জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতির মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিপরীতে গিয়ে বর্ষীয়ান নেতাদের এই অবস্থান হাইকম্যান্ডের কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে কেন্দ্রের মোদী সরকারকে সমর্থন জানানোয় কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ঐক্য এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। এই ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনে দলীয় রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *