ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, ইভানে নজিরবিহীন হামলার আশঙ্কায় কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, ইভানে নজিরবিহীন হামলার আশঙ্কায় কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের বিরুদ্ধে এবার চরম ধৈর্য হারিয়ে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে ইরানকে কার্যত ধ্বংস করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন তিনি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্দেশ অমান্য করলে ইরানকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে যা আগে কখনও দেখেনি বিশ্ব।

দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আবহে ট্রাম্পের এই পোস্ট আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী মঙ্গলবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের দিন হতে চলেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ওই ‘নরকসম’ প্রণালীটি দ্রুত না খুললে তেহরানকে চরম মূল্য দিতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আগ্রাসী মনোভাব যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে, গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বেশ বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। সূত্রের খবর, ইরানের হামলায় আমেরিকার অত্যাধুনিক এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান এবং ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের নিরন্তর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পেন্টাগনকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। উদ্ধারকাজে বারবার বাধা আসায় মার্কিন প্রশাসনের ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে। ইরাক, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। আমেরিকা এই অবরোধ ভাঙতে এখন সামরিক শক্তি প্রয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে বিশেষজ্ঞরা একে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন। যদিও পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার চেষ্টা চলছে, তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ চরমপত্র সেই পথকে আরও কঠিন করে তুলল। ইরান এই হুঁশিয়ারির পর তাদের রণকৌশল বদলায় কি না, অথবা মঙ্গলবার সত্যিই কোনও বড় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *