ফরাক্কায় নির্দল কাঁটায় ক্ষুব্ধ মমতা, বিদায়ী বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কারের কড়া হুঁশিয়ারি

ফরাক্কায় নির্দল কাঁটায় ক্ষুব্ধ মমতা, বিদায়ী বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কারের কড়া হুঁশিয়ারি

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে অসন্তোষ তীব্র হয়েছে। বিদায়ী বিধায়ক মনিরুল ইসলামের পরিবর্তে এবার ঘাসফুল শিবিরের টিকিটে লড়ছেন আমিরুল ইসলাম। টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ মনিরুল নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার সামশেরগঞ্জের নির্বাচনী জনসভা থেকে বিদ্রোহী বিধায়ককে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানান, দলের স্বার্থে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার না করলে সংশ্লিষ্ট নেতাকে দল থেকে সাসপেন্ড বা বহিষ্কার করা হবে।

জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, যারা দলের শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কাজ করবেন, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। মনিরুল ইসলামের নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ফরাক্কায় আমরা যাকে টিকিট দিইনি, শুনছি তিনি নাকি দাঁড়িয়েছেন। আমি তাঁকে আবেদন করব দলের স্বার্থে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে। যদি তা না করেন, তবে আমি চেয়ারম্যানকে বলে যাচ্ছি তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করতে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ২৯৪টি আসনেই তিনি নিজে প্রার্থী এবং দলীয় প্রতীক ‘জোড়াফুল’-ই শেষ কথা। প্রার্থীর নাম বা পরিচয় ভুলে গিয়ে কর্মীদের একজোট হয়ে লড়াই করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে, দলনেত্রীর এই হুঁশিয়ারিতে পিছু হটতে নারাজ মনিরুল ইসলাম। তিনি পাল্টাও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে জানিয়েছেন, কারও হুমকির কাছে তিনি মাথানত করবেন না। প্রয়োজনে পদত্যাগ করবেন, কিন্তু লড়াইয়ের ময়দান ছাড়বেন না। উল্লেখ্য, মনিরুল ইতিপূর্বেই জঙ্গিপুর মহকুমা শাসক দফতরে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। আগামী ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদে ভোটগ্রহণ এবং ৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। রাজনৈতিক মহলের মতে, মনিরুল তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে ফরাক্কায় ভোট কাটাকাটির সমীকরণে শাসকদল কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে পারে। নির্বাচনী ময়দানে শেষ পর্যন্ত দল বনাম নির্দল বিধায়কের এই লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *