ইরানে একদিনে ১০ মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস, ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য গোপনের দাবি সিআইএ-র প্রাক্তন কর্তার

ইরানে একদিনে ১০ মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস, ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য গোপনের দাবি সিআইএ-র প্রাক্তন কর্তার

ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন সিআইএ-র প্রাক্তন আধিকারিক ল্যারি জনসন। তাঁর দাবি, তেহরানের নতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনার সময় ইরান বড়সড় প্রত্যাঘাত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন যে উদ্ধার অভিযানের সাফল্যের গল্প বলছে, তা আদতে একটি বিশাল সামরিক বিপর্যয়। জনসন জানান, ইরান একক প্রচেষ্টায় আমেরিকার এফ-১৫ ফাইটার জেটসহ মোট ১০টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে জনসন দাবি করেছেন, মার্কিন এফ-১৫ জেটটি নতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে হামলার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাছে তা ধরা পড়ে যায়। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, উদ্ধারকারী বিশেষ বাহিনী বা ডেল্টা ফোর্সের অভিযানের যে সীমা থাকে, এই ঘটনাটি সেই সীমার অনেক বাইরে ঘটেছিল। ফলে পুরো অভিযানটি কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এবং মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

সিআইএ-র এই প্রাক্তন কর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান একদিনে একটি এফ-১৫, দুটি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার, দুটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান, চারটি লিটল বার্ড এবং একটি এ-১০ ওয়ার্থহগ বিমান ধ্বংস করেছে। এর ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রায় ৪০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। জনসনের মতে, পেন্টাগন এই বিপুল ক্ষতির কথা স্বীকার না করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।

এই ঘটনার জেরে মার্কিন রাজনীতিতেও উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধে মার্কিন রণসচিব পিট হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ মার্কিন সাংসদরা। রিপাবলিকান সাংসদ কারবাজল প্রকাশ্যে পিট হেগসেথকে নেতৃত্বের অযোগ্য এবং দেশের জন্য কলঙ্ক বলে তোপ দেগেছেন। মার্কিন সংসদ অধিবেশনে এই নিয়ে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়েছে।

বর্তমানে ল্যারি জনসনের এই চাঞ্চল্যকর দাবি ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদি এই তথ্য সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে এটি আমেরিকার সামরিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হবে। যদিও পেন্টাগন বা ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এই নির্দিষ্ট দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *