ট্রাম্পের কুরুচিকর আক্রমণ আর পাল্টা পাষাণ যুগের খোঁচা ইরানের, উত্তপ্ত হোর্মুজ সংকট

ইরান যুদ্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হোর্মুজ প্রণালী নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুরুচিকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, অবিলম্বে হোর্মুজ প্রণালী না খুললে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে। তাঁর এই বার্তার ভাষা ও ভঙ্গির তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান। থাইল্যান্ডে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের আচরণ কিশোরসুলভ এবং আমেরিকাকে দেখে মনে হচ্ছে তারা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগেই ‘পাষাণ যুগে’ পৌঁছে গেছে।
হোর্মুজ সংকটকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাবের বিরোধিতা খোদ আমেরিকার ভেতরেও তীব্র হচ্ছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রভাবশালী নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন উন্মাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, পবিত্র ইস্টার উৎসবের সকালে ট্রাম্প যে ধরনের যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছেন, তা মিত্র দেশগুলোকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি দাবি করেছেন, হোর্মুজ প্রণালীতে চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে ট্রাম্প চূড়ান্ত কড়া পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। গ্রাহাম সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি দ্রুত কূটনৈতিক পথে না হাঁটে, তবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মারজোরি টেলর গ্রিন এই উত্তেজনার জন্য উল্টো আমেরিকা ও ইসরায়েলের ‘অযৌক্তিক উসকানি’কে দায়ী করেছেন।
ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা মার্কিন জনগণের উদ্দেশ্যে এক বার্তায় প্রশ্ন তুলেছেন, এ ধরনের কুরুচিকর রাজনীতি কি আদতে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিফলন? তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি যখন নীতি ও যুক্তি ছেড়ে স্রেফ প্রদর্শনীতে পরিণত হয়, তখন তা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। এই যুদ্ধাংদেহী অবস্থান সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সংকটে ফেলছে বলে তিনি দাবি করেন।
ট্রাম্পের সামরিক হুমকি ও আল্টিমেটাম গত কয়েক সপ্তাহে বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। ২১ শে মার্চ থেকে শুরু করে তিনি একাধিকবার হামলার সময়সীমা বাড়িয়েছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কখনো ৪৮ ঘণ্টা, কখনো ৫ দিন বা ১০ দিনের সময়সীমা দিয়ে তিনি ইরানকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছেন। সর্বশেষ ৬ই এপ্রিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে তিনি ফের ধ্বংসাত্মক হামলার ভয় দেখাচ্ছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পের এই অস্থির আচরণের সমালোচনা করে তাঁকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়া সফরে থাকা ম্যাক্রোঁ বলেন, এটি কোনো ছেলেখেলা নয়, বরং মানুষের জীবন-মরণের বিষয়। তাই যুদ্ধের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে প্রতিদিন মত পরিবর্তন না করে ট্রাম্পের উচিত আরও গম্ভীর ও দায়িত্বশীল হওয়া। ইউরোপীয় দেশগুলো আমেরিকার মিত্র হলেও এই সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে তারা যথেষ্ট সংশয়ে রয়েছে।