বিহারের নালন্দায় আঙ্কেল জি গ্যাংয়ের ১০ ডেরায় এনআইএ-র বিশাল তল্লাশি অভিযান

বিহারের নালন্দায় আঙ্কেল জি গ্যাংয়ের ১০ ডেরায় এনআইএ-র বিশাল তল্লাশি অভিযান

বিহারের নালন্দায় অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচার চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। সোমবার সকাল থেকে জেলাজুড়ে অন্তত ১০টি সন্দেহভাজন অবস্থানে একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। উত্তর ভারতজুড়ে বিস্তৃত একটি শক্তিশালী অস্ত্র পাচারকারী সিন্ডিকেটের হদিস পেতেই এই ম্যারাথন অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় এনআইএ-র একাধিক টিম বর্তমানে বিভিন্ন গোপন আস্তানায় নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখছে।

গত বছর এই পাচারচক্রের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করার পর থেকেই তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রয়েছে। এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত কমলকান্ত বর্মা ওরফে ‘আঙ্কেল জি’-কে গত ডিসেম্বরে পটনা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, কমলকান্ত এই আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের ১১ নম্বর অভিযুক্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তদন্তে উঠে এসেছে যে, হরিয়ানাসহ বিভিন্ন রাজ্যের অবৈধ কারখানা থেকে অস্ত্র ও কার্তুজ সংগ্রহ করে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা সরবরাহ করত এই বিপজ্জনক সিন্ডিকেট।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর এই মামলার প্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং হরিয়ানার ২৩টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করতে সক্ষম হন গোয়েন্দারা। বর্তমানের এই অভিযানটি মূলত অস্ত্র সরবরাহের সেই গোপন চেইন বা নেটওয়ার্কটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এনআইএ-র এই সাঁড়াশি অভিযানে বিহারের অপরাধ জগতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অন্যদিকে, একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের রিমান্ড আরও ৯ দিন বাড়িয়েছে বিশেষ এনআইএ আদালত। রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগির হোসেন নামে ওই দুই ব্যক্তিকে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে পালানোর সময় গ্রেফতার করা হয়েছিল। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর তারা বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ। বিশেষ বিচারক প্রশান্ত শর্মার এজলাসে তাদের পেশ করা হলে তদন্তের স্বার্থে আরও জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।

দেশজুড়ে সক্রিয় এই অপরাধমূলক চক্রগুলির আন্তঃরাজ্য এবং আন্তর্জাতিক যোগসূত্রগুলি খতিয়ে দেখছে এনআইএ। বিশেষ করে বিহার থেকে শুরু করে উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ করাই এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রধান লক্ষ্য। সোমবারের এই তল্লাশিতে নতুন কোনো বড়সড় সূত্র বা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন এখনও পর্যন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সামগ্রিক এই তৎপরতা পাচারকারীদের কোমর ভেঙে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *