কালিয়াচক কাণ্ডে কোমর বাঁধছে এনআইএ, মালদহ ইস্যুতে সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে প্রাথমিক রিপোর্ট

মালদহের মোথাবাড়ির সাম্প্রতিক অশান্তি ও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্তের গতি বাড়াল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। তার আগে দিল্লির সদর দপ্তরে সংস্থার শীর্ষকর্তারা এক জরুরি বৈঠকে বসেন। সূত্রের খবর, ওই রাতের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংগৃহীত তথ্যগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার পর এই চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
গত বুধবার মোথাবাড়ি বিডিও কার্যালয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত কাজে গিয়ে চরম হেনস্থার মুখে পড়েন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরেই দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকেন তাঁরা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, রাত পৌনে বারোটা নাগাদ পুলিশ সুপার ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল কনভয় পাঠিয়ে তাঁদের উদ্ধার করতে হয়। উদ্ধারকাজ চলাকালীন বিচারকদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টির মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে তদন্তে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে এনআইএ আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই উদ্ধারকারী কনভয়ের চালক এবং নিগৃহীত বিচারকদের সঙ্গে কথা বলে বয়ান রেকর্ড করেছেন।
এই স্পর্শকাতর ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও পারদ চড়ছে। রবিবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। মালদহের এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত মহাজঙ্গলরাজ’ বলে অভিহিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সংবিধান ও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরাই সুরক্ষিত নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনার কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের ওপর এই হামলা আসলে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার সামিল।
বিধানসভা নির্বাচনের আবহে কালিয়াচকের এই ঘটনা এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া অশান্তির চিত্র এবং উদ্ধার অভিযানের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে এনআইএ যে রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে চলেছে, তার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ। আদালতের পর্যবেক্ষণে এই ঘটনায় নতুন কোনো মোড় আসে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। মালদহের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের মধ্যে সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।