হাত-পা হারিয়েও বিশ্বজয়, ব্যাংককের প্যারা তিরন্দাজিতে জোড়া সোনা জিতে ইতিহাস ওড়িশার পায়েলের

হাত-পা হারিয়েও বিশ্বজয়, ব্যাংককের প্যারা তিরন্দাজিতে জোড়া সোনা জিতে ইতিহাস ওড়িশার পায়েলের

অদম্য জেদ আর কঠোর পরিশ্রমে আসাম্ভবকে সম্ভব করলেন ওড়িশার আঠারো বছর বয়সী তরুণী পায়েল নাগ। ব্যাংককে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড আর্চারি প্যারা সিরিজে জোড়া সোনা জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছেন তিনি। ফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর তিরন্দাজ শীতল দেবীকে ১৩৯-১৩৬ ব্যবধানে হারিয়ে ব্যক্তিগত বিভাগে শীর্ষস্থান দখল করেন পায়েল। এছাড়া দলগত বিভাগেও সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন এই কন্যে। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের ওপর ভর করেই ভারত ১৬টি পদক জিতে তালিকার শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছে।

পেশায় রাজমিস্ত্রির মেয়ে পায়েলের জীবন এক সময় অন্ধকারের মুখে দাঁড়িয়েছিল। ২০১৫ সালে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় রায়পুরে এক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসকদের তাঁর দু’টি হাত ও দু’টি পা বাদ দিতে হয়। চরম দারিদ্র্য আর শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এক সময় তাঁকে অনাথ আশ্রমেও থাকতে হয়েছিল। চার অঙ্গ হারানো এক কিশোরীর পক্ষে স্বাভাবিক জীবনযাপন যেখানে চ্যালেঞ্জিং ছিল, সেখানে সমাজ ও পরিস্থিতির সব নেতিবাচক মন্তব্যকে ভুল প্রমাণ করে আজ তিনি বিশ্বজয়ী।

২০২৩ সালে পায়েলের জীবন বদলে যায় কোচ কুলদীপ ভেদওয়ানের সান্নিধ্যে। কাটরার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ৮ ঘণ্টা কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে বিশেষভাবে তৈরি যন্ত্রের সাহায্যে তিরন্দাজি রপ্ত করেন তিনি। ২০২৫ সালে এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসে আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটিয়ে তিনি বিশ্বের প্রথম চার অঙ্গহীন তিরন্দাজ হিসেবে রেকর্ড গড়েন। পায়েলের এই সাফল্যে শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রা এবং ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক সময় যাকে পরিবারের ‘বোঝা’ মনে করা হয়েছিল, আজ তাঁর লক্ষ্যভেদই বিশ্বমঞ্চে ভারতের গর্বের কারণ হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *