ট্রাম্পের ডেডলাইনের মুখে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা, যুদ্ধ থামাতে ৪৫ দিনের বিরতির ফর্মুলায় ব্যাকচ্যানেল বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হওয়ার মধ্যেই শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে অত্যন্ত গোপনীয় ‘ব্যাকচ্যানেল’ আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া কড়া সময়সীমার চাপের মুখে এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো অন্তত একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ানো এই ডেডলাইনের মধ্যে সমঝোতা না হলে হোয়াইট হাউজ কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীরা একটি দুই পর্যায়ের চুক্তির প্রস্তাব সামনে রেখেছেন। প্রস্তাবিত পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে, যার ছায়াতলে স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে। এই আলোচনার প্রধান ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণ করা। তবে এই দুটি বিষয় তেহরানের কাছে বড় দরকষাকষির হাতিয়ার হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি গ্যারান্টি ছাড়া তারা কতটা নতি স্বীকার করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আলোচনার পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে দুই দেশের মধ্যকার চরম আস্থার সংকট। গাজা বা লেবাননের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে ইরান সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি দাবি করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, কোনোভাবেই যেন যুদ্ধবিরতি ভেঙে পুনরায় সংঘাত শুরু না হয়। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে এবং ইরানের পরিকাঠামোতে হামলা চালানো হলে তার প্রভাব পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও জল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর পড়বে, যা একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক সংকটের জন্ম দেবে।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখা হয়েছে। দেশটির বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরানে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তার সমানুপাতিক জবাব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে আমেরিকা-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকেও নিশানা করা হতে পারে বলে তেহরান সতর্ক করেছে। ফলে মঙ্গলবারের এই ডেডলাইনকে কেন্দ্র করে গোটা বিশ্ব এখন উত্তেজনার পারদ মাপছে, যেখানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান নির্ধারণ করে দিতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।