চিকিৎসা জগতের এক যুগের অবসান, ১০৬ বছর বয়সে প্রয়াত কিংবদন্তি চিকিৎসক মণি কুমার ছেত্রী
পশ্চিমবঙ্গের আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবার অন্যতম রূপকার এবং প্রখ্যাত চিকিৎসক মণি কুমার ছেত্রী ১০৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর প্রয়াণে রাজ্যের চিকিৎসা মানচিত্রে একটি দীর্ঘ ও গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ১৯২০ সালে দার্জিলিংয়ে জন্মগ্রহণ করা এই মহীরুহ চিকিৎসক কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালকে আধুনিক রূপ দেওয়ার নেপথ্যে প্রধান কারিগর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিধানচন্দ্র রায়ের পরবর্তী সময়ে রাজ্যের ভেঙে পড়া চিকিৎসা পরিকাঠামো পুনর্গঠনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ডাঃ ছেত্রী ১৯৪৪ সালে চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক এবং পরবর্তীকালে বিদেশ থেকে লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিসিয়ানস থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে তিনি কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে কর্মজীবন শুরু করেন। তাঁর হাত ধরেই এসএসকেএম হাসপাতালে প্রথম ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিট (আইটিইউ) গড়ে ওঠে। এছাড়া এন্ডোক্রিনোলজি, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি এবং রিউম্যাটোলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো সরকারি স্তরে চালুর কৃতিত্বও তাঁরই।
সহকর্মী ও ছাত্রদের কাছে তিনি ছিলেন ‘শিক্ষকদের শিক্ষক’। শুধুমাত্র একজন চিকিৎসক হিসেবেই নয়, একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও তিনি সিস্টেম তৈরিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ১৯৭৪ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত এই ব্যক্তিত্ব ১০০ বছর পার করার পরও রোগীদের প্রতি সমান যত্নশীল ও সক্রিয় ছিলেন। তাঁর গবেষণামূলক কাজ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি কয়েক প্রজন্মের চিকিৎসকদের অনুপ্রাণিত করেছে।
ডাঃ মণি কুমার ছেত্রীর প্রয়াণে গোটা চিকিৎসা মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর গড়ে দেওয়া আধুনিক চিকিৎসার ভিত এবং বিশেষায়িত বিভাগগুলো আজও রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষকে পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছে। একটি যুগের অবসান ঘটলেও চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে তাঁর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এক অভিভাবককে হারাল।